ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন কিনা বুঝবেন কীভাবে?

হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন কিনা বুঝবেন কীভাবে?
×

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫৪

প্রতিটি মুহূর্তে পাম্প করে পুরো শরীরে অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেওয়া হৃৎপিণ্ডের মূল কাজ। এটি মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিন্তু আধুনিক যুগে অনিয়মিত জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কারণে খুব অল্প বয়সেই অনেকের হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হার্ট ফেইলিওর’বা ‘উইক হার্ট’। তবে হৃৎপিণ্ড কিন্তু হঠাৎ করে একদিনেই পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে না। কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে শরীর আগে থেকেই কিছু সূক্ষ্ম ও গোপন সংকেত দিতে থাকে। অনেকেই সেগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা গ্যাসের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। আপনি হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন কিনা তা বুঝতে কয়েকটি শারীরিক সংকেতে কথা জানানো হয়েছে হিন্দুস্তান টাইমসে’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-

সামান্য পরিশ্রমে অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট : সিঁড়ি দিয়ে দু-তিন ধাপ ওঠার সময়, সামান্য হাঁটাহাঁটি করলে কিংবা সমতল জায়গায় হাঁটলেও যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হাঁপিয়ে যান বা বুক ধড়ফড় করে, তবে তা দুর্বল হার্টের প্রাথমিক লক্ষণ। হৃৎপিণ্ড যখন সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না, ফুসফুসে রক্ত বা তরল জমে যায়, তখন শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

পা, গোড়ালি ও পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব : কোনো আঘাত ছাড়াই যদি দুই পা, গোড়ালি, পায়ের পাতা বা তলপেট হঠাৎ ফুলে যায়, তখন বুঝতে হবে দুর্বল হার্ট পুরো শরীর থেকে রক্ত টেনে নিয়ে আবার তা পাম্প করে ফিরিয়ে পাঠাতে পারছে না। এর ফলে মাধ্যাকর্ষণের টানে শরীরের নিচের অংশে, বিশেষ করে পায়ে পানি বা তরল জমতে শুরু করে।

অনবরত অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা : পর্যাপ্ত ঘুমানো বা বিশ্রামের পরেও যদি সারাদিন অসম্ভব ক্লান্তি ও অলসতা বোধ হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হলে মস্তিষ্কে ও পেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায় না। এর ফলে সামান্য কাজ করতেই শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
শুয়ে পড়লে শ্বাস নিতে কষ্ট বা রাতে কাশি : রাতে সোজা হয়ে শুলেই যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, হঠাৎ দম আটকে ঘুম ভেঙে যায় তখন সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ পিঠের ওপর সোজা হয়ে শুলে ফুসফুসে জমে থাকা তরল শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি করে। এর ফলে অনেকেই রাতে না শুয়ে বালিশে মাথা উঁচু করে বা বসে ঘুমাতে বাধ্য হন। এ ছাড়া রাতে অনবরত শুকনো কাশিও দুর্বল হৃৎপিণ্ডের অন্যতম লক্ষণ।

বুক জ্বালা, অস্বস্তি ও চাপ লাগা : বুকে তীব্র ব্যথা ছাড়াও যদি মনে হয় বুকের ওপর ভারি কিছু চেপে বসে আছে, বুক ধড়ফড় করছে বা অসাড় অনুভূতি হচ্ছে, তবে তা দুর্বল হার্টের স্পষ্ট ইঙ্গিত। এই অস্বস্তি অনেক সময় বুকের মাঝখান থেকে বাঁ হাত, কাঁধ, পিঠ, চোয়াল বা ঘাড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হঠাৎ দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া : খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না হওয়া সত্ত্বেও যদি ২-৩ দিনের মধ্যে হঠাৎ করে ওজন  ১ থেকে ২ কেজি বেড়ে যায়, তবে তা দুর্বল হৃৎপিণ্ডের সংকেত দেয়। কারণ হৃৎপিণ্ড দুর্বল হওয়ার কারণে শরীরে অতিরিক্ত পানি বা তরল জমার ফলেই মূলত এই দ্রুত ওজন বৃদ্ধি ঘটে।

মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা ও জ্ঞান হারানো : বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ দ্রুত উঠে দাঁড়ালে যদি মাথা ঘুরে ওঠে, চোখে অন্ধকার দেখেন বা মাথা হালকা মনে হয়, তবে বুঝতে হবে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে সঠিক মাত্রায় রক্ত পৌঁছাচ্ছে না। পাম্পিং ক্ষমতা কমে গেলে দুর্বল হার্ট পর্যাপ্ত রক্ত পাঠাতে পারে না।

খিদে না পাওয়া ও পেটে ভারি ভাব : পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না হলে কিংবা সেখানে পানি জমলে সবসময় পেট ভরা ভরা লাগে। সামান্য কিছু খেলেই বদহজম, বমি বমি ভাব এবং খাবারের প্রতি তীব্র অনীহা তৈরি হতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যা করতে পারেন-
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, হালকা যোগাসন বা সাঁতার কাটলে হার্টের মাংসপেশি শক্তিশালী হয়।
লবণ ও পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করুন। শরীরে পানি জমা এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শমতো লবণ ও পানি গ্রহণ করুন।
ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন: তামাকের নিকোটিন রক্তনালীকে শক্ত ও সরু করে দেয়, যা দুর্বল হার্টের জন্য ক্ষতিকর।
রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা: নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরল মেপে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
 

আরও পড়ুন

×