গান আমার ভালোবাসা, এটা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই: কর্নিয়া
জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া
এমদাদুল হক মিলটন
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৫৬ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:০৯
জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া। তারকা সংগীতশিল্পী। গানের পাশাপাশি রিয়েলিটি শো ‘আরটিভি লিটল স্টার-সিজন-২’-এর বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অন্যদিকে, নিজের গান, সংগীতচর্চা ও মঞ্চ পরিবেশনা নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন এই সংগীতশিল্পী। রিয়েলিটি শোর বিচারকের আসনে বসার অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন
‘আরটিভি লিটল স্টার সিজন-২’-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিজ্ঞতা কেমন?
প্রথম সবকিছু তুলনাহীন। তাই এত বড় আয়োজনের প্রথমবার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালেনের অভিজ্ঞতাই ছিল অন্যরকম। বিচারকের আসনে বসে নতুন অভিজ্ঞা হয়েছে। প্রতিযোগিতার আয়োজকরা যখন আস্থা রাখেন, তখন দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করি। আমি চাই, কোনো প্রতিযোগীর আবেগ বা অন্য কোনো বিষয় দিয়ে প্রভাবিত না হয়ে তার গানের সঠিক মূল্যায়ন করতে। এখানে বিচারক হিসেবে আরও আছেন বরেণ্য পপশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সংগীতিশিল্পী লিজা। শুটিংয়ের বাইরে ফেরদৌস ওয়াহিদ আমাদের আনন্দে মাতিয়ে রাখতেন। মনেই হয়নি তিনি আমাদের থেকে অনেক বড়। আগামী ১৮ অক্টোবর হবে এর ফাইনাল। এমন একটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় আরটিভিকে ধন্যবাদ।
নিজেও রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন। এখন বিচারকের আসনে বসে পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে?
অবশ্যই। একটা সময় আমিও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি, একজন প্রতিযোগীর জন্য এই সময়টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিচারকদের একটি মন্তব্যও তাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আমি চাই, প্রতিযোগীদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভালো দিকগুলোও তুলে ধরতে। কোথায় উন্নতি করতে হবে, কীভাবে আরও ভালো করা যায়– সেটা বোঝানো জরুরি। বিশেষ করে ছোটদের ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহ ধরে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই বয়সে তারা গান শেখার পাশাপাশি নিজেদের আত্মবিশ্বাসও তৈরি করে। আমার বিশ্বাস, সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিয়মিত চর্চা পেলে তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে ভালো করবে।
শিশুশিল্পীদের মধ্যে কেমন সম্ভাবনা দেখছেন?
অনেক শিশুর মধ্যেই অসাধারণ প্রতিভা দেখছি। কারও গলায় দারুণ মাধুর্য আছে, কেউ আবার খুব সহজে সুর আয়ত্ত করতে পারে। তবে শুধু ভালো গাইতে পারলেই হবে না, গান শেখার প্রতি আগ্রহ ও নিয়মিত চর্চাও থাকতে হবে। প্রতিযোগিতায় ভালো করার পাশাপাশি সংগীতকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। আমি চাই, তারা যেন শুরু থেকেই গানকে গুরুত্ব দিয়ে নেয় এবং নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে। প্রতিযোগিতায় ছোট ছোট অনেক মেধাবী শিশুকে পাচ্ছি, যারা দারুণ গান করে। তাদের মধ্যে আগামীর সম্ভাবনা দেখছি।
ইদানীং রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসা শিল্পীরা নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন না বলে অনেকে মনে করেন। আপনার কী মত?
আমাদের এখানে রিয়েলিটি শোগুলোতে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিযোগী আসে। তাদের ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন থাকে। শুরুতে তারা খুব চেষ্টা করে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনেকের সেই চর্চা ধরে রাখা হয় না। অথচ গান এমন একটি বিষয়, যেখানে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। একটা প্রতিযোগিতায় ভালো করাই শেষ কথা নয়; বরং সেখান থেকে শুরু করে নিজেকে আরও এগিয়ে নিতে হয়। পথে বাধা আসবে, প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য নাও আসতে পারে। তাই বলে ভেঙে পড়লে চলবে না। নিজের স্বপ্নের প্রতি আন্তরিক থাকতে হবে। নিয়মিত চর্চা, ধৈর্য ও অধ্যবসায় থাকলে একদিন না একদিন নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।
‘জামদানি শাড়ি’ গানটি নিয়ে কেমন সাড়া পেলেন?
গানটি নিয়ে শ্রোতাদের কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়াটা আমার জন্য আনন্দের। একজন শিল্পী হিসেবে নতুন গান প্রকাশের পর শ্রোতারা কীভাবে গ্রহণ করছেন, সেটা জানতে সব সময়ই ভালো লাগে। শ্রোতাদের এই ভালোবাসা আমাকে নতুন কাজের অনুপ্রেরণা দেয়। আমি চাই, আমার গান শুনে তারা আনন্দ পাক এবং প্রতিটি নতুন গানে আলাদা কিছু খুঁজে পাক।
প্রতিটি আয়োজনে নিজেকে নতুন রূপে তুলে ধরেন। বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে পরিচিত হওয়ার পেছনে কি বিশেষ পরিকল্পনা আছে?
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই চেয়েছি, নানা ধরনের গানের মধ্য দিয়ে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলতে। গানের মধ্য দিয়ে নিজেকে বারবার ভাঙতে এবং নতুনভাবে আবিষ্কার করতে ভালো লাগে। একই ধরনের কাজ বারবার করতে চাই না। তবে নিরীক্ষা করার অর্থ শুধু ভিন্ন কিছু করা নয়, গানের প্রতি সুবিচার করাও জরুরি। আমি চেষ্টা করি, যে ধরনের গানই করি না কেন, নিজের গায়কির স্বকীয়তা ধরে রাখতে।
এই সময়ের ব্যস্ততা কী নিয়ে?
নতুন কিছু একক ও দ্বৈত গান প্রকাশের পরিকল্পনা করছি। আশা করছি, গানগুলো শ্রোতাদের ভালো লাগবে। পাশাপাশি স্টেজ শো নিয়েও ব্যস্ততা যাচ্ছে। মঞ্চে সরাসরি শ্রোতাদের সামনে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা সব সময়ই আলাদা। এরই মধ্যে খাগড়াছড়ি কনসার্ট করেছি। আজ কক্সবাজার কনসার্ট আছে। ঢাকার মধ্যেও কিছু আয়োজন আছে। কনসার্টে শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়। নতুন গান, নিয়মিত পরিবেশনা এবং সংগীতের বিভিন্ন ধারায় কাজ করার মধ্য দিয়ে সময়টা কাটছে।
কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি মডেল বা অভিনেত্রী হিসেবে আপনাকে দেখার সম্ভাবনা আছে?
সে সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিভিন্ন পত্রিকার ফ্যাশন পাতার জন্য মডেল হিসেবে কাজ করেছি, তবে সেগুলো মূলত তাদের অনুরোধে। মডেল হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে কাজ করিনি। অভিনয় নিয়েও বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। শখের বশে অন্য কিছু করলেও আমার মূল পরিচয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই রাখতে চাই। গানই আমার ভালোবাসা, গান নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
- বিষয় :
- জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া