নিলাম ছাড়াই পুরোনো স্কুল ভবন ভেঙে বিক্রি
নিলাম ছাড়াই জামালপুরের দেউলিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন অপসারণ সমকাল
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৩ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
জামালপুর সদর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পুরোনো ভবন নিলাম ছাড়াই ভেঙে বিক্রি করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দীনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। ভবন ভাঙা বা বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা না মানায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দীন সম্প্রতি বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেন। ভবনটির রড, অ্যাঙ্গেল, টিন, দরজা, জানালাসহ বিভিন্ন মালপত্র ভ্যানে করে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে এসব মালপত্র জামালপুর বাইপাস এলাকার একটি ভাঙাড়ি দোকানে বিক্রি করা হয়।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয় ভবন অপসারণ ও বিক্রির সময় প্রধান শিক্ষক কারও কথায় কর্ণপাত করেননি। উল্টো সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জন্য হুমকি দেন।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম দুলু বলেন, যে কোনো সরকারি স্থাপনা অপসারণ করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নিয়ম অনুযায়ী নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দীন নিজেই বিদ্যালয় ভবন ভেঙে মালপত্র দোকানে দোকানে বিক্রি করে দেন।
মালপত্র পরিবহনকারী ভ্যানচালক আসাদুল ইসলামের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে কিছুদিন আগে বিদ্যালয় থেকে কয়েকটি ভ্যানে করে লোহা, অ্যাঙ্গেল, টিন, পুরোনো জানালাসহ বিভিন্ন মালপত্র জামালপুর বাইপাস এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেগুলো ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়।
বাইপাস এলাকার এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী বলেন, মাঈন উদ্দীন নামে ওই ব্যক্তি কয়েকটি ভ্যানভর্তি পুরোনো দরজা, জানালা, রড ও বিপুল পরিমাণ লোহার অ্যাঙ্গেল বিক্রির জন্য আসেন। কিন্তু দরদামে বনিবনা না হওয়ায় অন্য ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন।
প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দীনের দাবি, বিদ্যালয়ের মাঠ উন্মুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য পুরোনো ভবনটি অপসারণ করেছেন।
তবে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি নাফিউন নূরের ভাষ্য, গত জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁর সভাপতিত্বে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়। সেই সভায় পুরোনো ভবনটি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিলাম দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত ও রেজল্যুশন করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দীন সেই সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দেন। পরে জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, কোনো সরকারি বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন বা মালপত্র বিক্রি করতে হলে উপজেলা কমিটির মাধ্যমে নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে ভবন ভেঙে বিক্রি করার এখতিয়ার নেই। তাঁর ভাষ্য, এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম ও মোয়াজ্জেম হোসেনের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- নিলাম