ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পায়ের তলায় শর্ষে

শহর ছেড়ে দূরে...

শহর ছেড়ে দূরে...
×

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

গুণীজনরা বলেন, ‘ব্যস্ততাই জীবন’। আমি এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। তারপরও হাজারো ব্যস্ততার মাঝে চাই একটু অবসর। তবে অবসরটুকু নিজেকে ঘরবন্দি রাখার জন্য নয়, পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। অনেকের মতো পর্যটকের বেশে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর নেশা আমারও আছে। তাইতো মন যখন তখন ছুটে যেতে চায় শহর ছেড়ে দূরে কোনোখানে। এ কারণে যখনই বিদেশ-বিভুঁইয়ে যাওয়ার সুযোগ মিলেছে, তা কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইনি। উড়াল দিয়েছি মনের আনন্দে। কাজের সূত্রে কয়েকটি দেশে যাওয়া হলেও পরিব্রাজক মনকে দমিয়ে রাখতে পারিনি। এজন্য কিছুটা সময় আলাদাভাবে বের করে নিয়েছি নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। বেড়ানোর আনন্দের পাশাপাশি অন্যরকম কিছু অভিজ্ঞতাও হয়েছে। এই সৌদি আরব সফরে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা কখনও ভুলে যাওয়ার নয়। গত বছর নন্দিত দুই কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর ও মনির খানের সঙ্গে ‘রিয়াদ সিজন’-এর ষষ্ঠ আসরে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলাম। যে হোটেলে ছিলাম, সেখানে যে আমার জন্য একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে জানতাম না। সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে রিসেপশনে জানিয়ে দিয়েছিলাম, আমার রুমটা যেন তারা ক্লিন করে রাখে। ব্যস, এটুকু বলেই বেরিয়ে পড়েছিলাম রিয়াদ শহরটা চষে বেড়াতে। শহর ঘুরে, অনেক কেনাকাটা শেষে ফিরেছিলাম হোটেলে। এরপর রুমে ঢুকে দেখি, সবকিছু পরিচ্ছন্নভাবে গুছিয়ে রাখা, কেবল পড়ে আছে একটি চিরকুট। হাতে নিয়ে দেখি, সেখানে বাংলা হরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে, আমার সঙ্গে সে দেখা করতে চায়। মুহূর্তেই বুঝে গেছি, চিরকুট রেখে যাওয়া রুম ক্লিনার একজন বাঙালি। ভালোবাসার আবদারে কেউ এভাবে দেখা করতে চাচ্ছে–এটা জেনে অন্যরকম এক ভালো লাগায় মনটা ছেয়ে গিয়েছিল। সৌদি আরব সফরের সেই অভিজ্ঞতা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সৌদি আরবের মতো অভিজ্ঞতা না হলেও ভ্রমণের জন্য আরেকটি দেশ এখনও হাতছানি দেয়। সেই দেশটি হলো মালয়েশিয়া। ‘রিয়েল হিরোজ অ্যাওয়ার্ড ২০২৪ সিজন থ্রি’-তে অংশ নিতে মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিলেন সিনেমার সূত্র ধরে যিনি আমার চাচ্চু হয়ে উঠেছেন, সেই ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান। যা-ই হোক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ফাঁকে মালয়েশিয়ার যতটুকু ঘুরে দেখেছি, তা দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার থেকে শুরু করে আধুনিক স্থাপত্য যেমন অবাক করার মতো, তেমনি মনোমুগ্ধকর দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ল্যাঙ্কাউই দ্বীপ, ক্যামেরুন হাইল্যান্ডস, কিনাবালু পাহাড় থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছু আছে দেখার। এখনও সব জায়গা বেড়ানোর সুযোগ হয়নি, তাই মালয়েশিয়ার প্রতি আকর্ষণটা এখনও আগের মতো রয়ে গেছে। একই রকম দুর্বলতা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিয়েও। কদিন আগে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে গেছি যুক্তরাষ্ট্রে। বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছি, সেখানে নানা বর্ণ-জাত-গোত্র, ভাষাভাষীর মানুষের ভিড় দেখে। পৃথিবীর সব দেশের মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে মার্কিন মুল্লুকে। যেমন এই দেশ একবারের জন্য হলেও ভ্রমণ করা চাই-ই চাই। অবশ্য সেখানে দেখারও আছে অনেক কিছু। সারাবছর ঘুরে বেড়ালেও মনে হয় না আমেরিকা ভ্রমণের ইতি টানা যাবে। তাই কোথায় কী দেখে মুগ্ধ হয়েছি, তার বয়ান দিতে গেলেও অনেক কথা বলতে হবে। শুধু এটুকু বলি, নিউইয়র্কসহ যে কটি রাজ্যে সফর করেছি, তা ছবির মতো মনের পর্দায় আঁকা হয়ে আছে। প্রথম সফরেই এও স্পষ্ট হয়েছে, কেন আমেরিকাকে সবাই স্বপ্নের দেশ বলে। 

আরও পড়ুন

×