পানিতে রক্তের স্রোত
মীর সামী
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪০ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
জেসন স্ট্যাথাম অভিনীত সিনেমা মানেই বিস্ফোরণ, ধুন্ধুমার মারামারি আর এক অসম্ভব কঠিন পরিস্থিতিতে একা লড়ে যাওয়ার গল্প। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আগামীকাল শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে হলিউডের জনপ্রিয় এই অ্যাকশন তারকার নতুন সিনেমা ‘মিউটিনি’। জ্যাঁ-ফ্রাঁসোয়া রিশে পরিচালিত ৯৫ মিনিটের এ সিনেমায় স্ট্যাথামের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন–অ্যানাবেল ওয়ালিস, রোল্যান্ড মোলার, অ্যাড্রিয়ান লেস্টার, জেসন ওং, আরনাস ফেদারাভিচুসহ অনেকে।
‘মিউটিনি’তে স্ট্যাথামকে দেখা যাবে কোল রিড চরিত্রে। একসময় স্পেশাল ফোর্সের সদস্য এবং নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন রিড। জীবনের নানা ঘটনায় তাঁর ক্যারিয়ারে পতন আসে। এরপর তিনি কাজ শুরু করেন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। তাঁর নিয়োগকর্তা একজন ধনকুবের শিল্পপতি ও শিপিং ব্যবসায়ী। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। হঠাৎ সেই ধনকুবেরকে রিডের চোখের সামনে হত্যা করা হয়। সবচেয়ে বড় বিপদটি আসে এরপর। খুনের দায় চাপানো হয় রিডের ওপর। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ না দিয়েই যখন আইন ও অপরাধীদের দুদিক থেকে চাপ তৈরি হয়, তখন পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রিড। সত্যিকারের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করাই হয়ে ওঠে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। সেই অনুসন্ধান তাঁকে নিয়ে যায় একটি কার্গো জাহাজে। সমুদ্রের মাঝখানে সেই জাহাজেই শুরু হয় প্রতিশোধের অভিযান। খুব দ্রুতই রিড বুঝতে পারেন, ঘটনাটি কেবল একজন ধনকুবেরের হত্যাকাণ্ড নয়। এর পেছনে রয়েছে আরও বড় এবং জটিল একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। এখানেই ‘মিউটিনি’র গল্পে যোগ হয় নতুন মাত্রা। পথে পথে রিডকে মুখোমুখি হতে হয় দুর্নীতি, ভাড়াটে যোদ্ধা ও অপরাধচক্রের। সমুদ্রের মাঝখানে সাহায্য পাওয়ার সুযোগও সীমিত। ফলে নিজের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক সামর্থ্যের ওপরই নির্ভর করতে হয় তাঁকে।
সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া ট্রেলারে দেখা গেছে বিশাল কার্গো জাহাজের ভেতরে বন্দুকযুদ্ধ, মারামারি, ধাওয়া এবং বিস্ফোরণের পাশাপাশি স্ট্যাথামের পরিচিত হাতাহাতির দৃশ্যও। কখনও তাঁকে একাধিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে দেখা যায়, কখনও আবার বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বুদ্ধি খাটিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সমুদ্রের বিশালতা আর জাহাজের সীমিত পরিসর–এ দুই বিপরীত পরিবেশকে ব্যবহার করেই তৈরি হয়েছে সিনেমার অ্যাকশন আবহ।
তবে ‘মিউটিনি’কে শুধু মারামারির সিনেমা হিসেবে দেখছেন না নির্মাতারা। অ্যাকশনের পাশাপাশি এতে রয়েছে ক্রাইম, থ্রিলার ও ষড়যন্ত্রের গল্প। রিডের সামনে একদিকে যেমন রয়েছে তাঁর বসের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তাঁকে মোকাবিলা করতে হবে এমন একটি শক্তির; যার প্রভাব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে আছে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত প্রতিশোধের গল্প ধীরে ধীরে পরিণত হয় বৃহত্তর ষড়যন্ত্র উন্মোচনের গল্পে। সিনেমাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্মাতা। যিনি এর আগে জেরার্ড বাটলার অভিনীত ‘প্লেন’ পরিচালনা করেছেন তিনি। সীমিত একটি পরিসরকে কেন্দ্র করে টানটান অ্যাকশন ও থ্রিল তৈরি করার অভিজ্ঞতা রিশের রয়েছে। ‘মিউটিনি’তেও তিনি সমুদ্রের মাঝখানে একটি কার্গো জাহাজকে অ্যাকশনের প্রধান মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ফলে সিনেমাটিতে বড় পরিসরের যুদ্ধক্ষেত্রের বদলে সংকীর্ণ জায়গায় দ্রুতগতির সংঘর্ষই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
‘মিউটিনি’র দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫ মিনিট। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে গল্প টেনে নেওয়ার বদলে নির্মাতারা দ্রুতগতির বর্ণনা, অ্যাকশন এবং থ্রিলের ওপর জোর দিয়েছেন। সিনেমাটি যেহেতু ‘আর রেটেট’, ফলে এর অ্যাকশন দৃশ্য ও সহিংসতার মাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। সিনেমাটিতে স্ট্যাথাম অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজকের দায়িত্বও পালন করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান পাঞ্চ প্যালেস প্রোডাকশনস সিনেমাটির প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রকল্পটি শুধু আরেকটি অ্যাকশন সিনেমা নয়, স্ট্যাথামের নিজের অ্যাকশন ধাঁচের ইমেজকে সামনে রেখে তৈরি একটি চলচ্চিত্রও বলা যায়।
স্ট্যাথামের ক্যারিয়ারে ‘দ্য ট্রান্সপোর্টার’ থেকে ‘দ্য মেকানিক’, ‘দি এক্সপেন্ডেবলস’ থেকে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’। বারবার ফিরে এসেছে এক ধরনের চরিত্র। খুব বেশি কথা না বলে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঢুকে পড়া, একাধিক প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করা এবং শেষ পর্যন্ত নিজের লক্ষ্য অর্জন করা। এই ফর্মুলা তাঁর দর্শকদের কাছে বেশ পরিচিত। ‘মিউটিনি’তেও সেই পরিচিত স্ট্যাথামকে পাওয়া যাবে। ‘মিউটিনি’র নামটিও গল্পের সঙ্গে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ অর্থে ‘মিউটিনি’ বলতে বিদ্রোহ বা সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ বোঝায়। সিনেমার গল্পে সেই বিদ্রোহের আবহ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে একজন মানুষের নিজের বিরুদ্ধে তৈরি করা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ার গল্প। আইন যখন তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে, তখন নিজের মতো করে সত্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়াই হয়ে ওঠে রিডের একমাত্র পথ।
- বিষয় :
- বিনোদন