পায়ের তলায় শর্ষে
ইউরোপের পথে পান্তরে
প্রিয়ন্তী উর্বী
প্রিয়ন্তী উর্বী
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
এবারের ইউরোপ ভ্রমণটা আমার জন্য একেবারে অন্যরকম। জীবনে প্রথমবার ইউরোপে এসেছি, আর প্রায় ৪৫ দিনের জন্য এই ভ্রমণ। ইউরোপের পাঁচ-ছয়টি দেশ ঘোরার সুযোগ হয়েছে। আমার পরিবারও এখানে থাকে। তাই পরিবারকে সময় দেওয়া, নতুন জায়গা দেখা এবং নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটানোর ইচ্ছা থেকে এই দীর্ঘ ভ্রমণ। এর আগে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক জায়গায় ঘোরা হয়েছে। ইউরোপ এসে মনে হয়েছে, এই মহাদেশের সৌন্দর্য ও অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম।
আমার ইউরোপযাত্রা শুরু হয়েছে নেদারল্যান্ডস দিয়ে। আমস্টারডাম, জ্যানসে স্কানস, রটারডাম, দ্য হেগ, গিথুর্ন, হোক ফন হল্যান্ডসহ বেশ কিছু জায়গায় ঘুরেছি।
নেদারল্যান্ডসের প্রকৃতি আমাকে দারুণ মুগ্ধ করেছে। বায়ুকল, খোলা আকাশ, খাল আর ছোট ছোট কুটির–সব মিলিয়ে যেন ছবির মতো একটা দেশ। গিথুর্নে গিয়ে খাল আর কুটিরগুলোর মাঝখানে যে প্রশান্তি পেয়েছি, সেটি আলাদা করে মনে থাকবে। আবার হোক ফন হল্যান্ডে সমুদ্র আর আকাশের মিলনও দারুণ লেগেছে। আমি যেহেতু সমুদ্র খুব ভালোবাসি, তাই সুযোগ পেলেই সমুদ্রের কাছে ছুটে যাই।
এরপর গিয়েছি বেলজিয়ামে। ব্রাসেলস ও গেন্ট ঘুরেছি। বেলজিয়ামে যাওয়ার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেখানকার স্থাপত্যশৈলী। ব্রাসেলসের প্যালেস অব জাস্টিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা দেখেছি। গেন্টের পরিবেশও খুব ভালো লেগেছে। বেলজিয়ান চকলেট আর ওয়াফেলের স্বাদ নেওয়াও ছিল ভ্রমণের আনন্দের একটা অংশ। আমি কোনো দেশে গেলে শুধু দর্শনীয় স্থান দেখতে চাই না; সময়-সুযোগ পেলে সেই দেশের স্থানীয় খাবারও খেতে চাই। কারণ খাবারের মধ্য দিয়েও একটা দেশের সংস্কৃতিকে খুব কাছ থেকে অনুভব করা যায়।
ফ্রান্সে গিয়ে প্যারিস ও ডিজনিল্যান্ড প্যারিস ঘুরেছি। আইফেল টাওয়ারকে কী আর এড়িয়ে যাওয়া যায়! প্যারিস যেন নিজের মতো করে ডাকছিল। ভাষাগত কিছুটা বাধা থাকলেও শহরটির শিল্প, স্থাপত্য আর পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে। ডিজনিল্যান্ডে কাটানো দিনটাও ছিল ভিন্নরকম আনন্দের। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত যেন একটু বেশি জাদুকরী মনে হয়েছে।
জার্মানিতে গিয়ে বার্লিন, ব্ল্যাক ফরেস্ট, লান্ডাউসহ আরও অনেক জায়গায় ঘুরেছি। বার্লিনে স্বামীর সঙ্গে অনেকটা হেঁটেছি। প্রচুর হাঁটা, শহর দেখা আর একসঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতিটা আমার কাছে খুব বিশেষ। ব্ল্যাক ফরেস্টের প্রকৃতি এবং জার্মানির অন্যান্য জায়গার অভিজ্ঞতাও মনে রাখার মতো। সুইজারল্যান্ডের ইন্টারলাকেন ও গ্রিন্ডেলওয়ার্ল্ড আমাকে মুগ্ধ করেছে। ইন্টারলাকেনকে মনে হয়েছে পৃথিবীর স্বর্গের এক টুকরো। পাহাড়, সবুজ আর চারপাশের অসাধারণ সৌন্দর্য দেখে মনে হয়েছে প্রকৃতি এখানে নিজের হাতে ছবি এঁকেছে।
২০১৬ সালে প্রথম দেশের বাইরে গিয়েছিলাম ভারতে। তখন আমি দশম শ্রেণির ছাত্রী। এর আগে কখনও প্লেনে চড়াও হয়নি। প্রথমবার বিমানে ওঠার অনুভূতিটা আজও মনে আছে। তখন বিদেশ মানে মনে হতো সব ভারতের মতো হবে। পরে যত দেশে গিয়েছি, তত বুঝেছি–প্রতিটি দেশের নিজস্ব সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন আছে।
এই ৪৫ দিনে তাই শুধু জায়গা দেখিনি, অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। শপিং করেছি, স্থানীয় খাবার খেয়েছি, প্রকৃতি উপভোগ করেছি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা, প্রিয় মানুষটির সঙ্গে এই পথচলা উপভোগ করেছি। ইউরোপ যতই সুন্দর হোক, প্রতিটি জায়গার সবচেয়ে প্রিয় অংশ ছিল আমার ভ্রমণসঙ্গীর পাশে থাকা। ভ্রমণ আমাকে নতুন জায়গা চিনিয়েছে, আর প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া মুহূর্তগুলো দিয়েছে আরও বেশি সুন্দর স্মৃতি।
- বিষয় :
- বিনোদন