স্মরণ
শিমুল হত্যা: বিচারহীনতার ৯ বছর
আব্দুল হাকিম শিমুল
এম. আতিকুল ইসলাম বুলবুল
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
আমাদের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সমকাল প্রতিনিধি প্রিয় সহকর্মী সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শিমুল পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় শাহজাদপুরের ত্রাস, সাবেক পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খুনি হালিমুল হক মিরুর গুলিতে আহত হন। বস্তুত আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। আহত শিমুল বগুড়া থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে ৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান। শিমুলের স্ত্রী নূরুন্নাহার বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় মেয়র মিরুসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মিরুসহ অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত থাকায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এমনকি এই মামলার সাক্ষী সাংবাদিক জহুরুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শিমুল হত্যার পর কেটে গেছে ৯ বছর। আজও বিচার পাননি তাঁর স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা সহকর্মীরা। আসামিরা মামলার পরপরই চতুরতার সঙ্গে জামিন নিয়ে সময়ক্ষেপণ, এ-আদালত, সে- আদালত করে পার করে দিল ৯টি বছর। শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার ভাবি একেবারেই অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে চাকরি ও এতিম দুই সন্তান নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন বলা চলে এককভাবেই। সেই সঙ্গে তাঁকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে প্রিয় স্বামী হত্যার বিচারের জন্য করা মামলা নিয়েও। এত দায়িত্ব, এত বোঝা বয়ে তিনিও ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, শিমুল হত্যার বিচার সম্পন্ন তো দূরের কথা, বিচারিক কার্যক্রম কোন পর্যায়ে আছে, তাও বলা মুশকিল। শুরু থেকেই সমকাল পরিবার, কর্তৃপক্ষ শিমুলের অসহায়, প্রায় বিপর্যস্ত পরিবারের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। সমকাল পরিবার ও কর্তৃপক্ষ নানা সময়ে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে পরিবারের প্রতি। তারপরও স্ত্রী-সন্তানদের বিচার না পাওয়ার ৯ বছরের করুণ গল্প থেকেই যায়। যে গল্প শেষ হতে পারে পরিবারটি ন্যায়বিচার পাওয়ার মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ খুনিদের উপযুক্ত শাস্তির মাধ্যমে। নুরুন্নাহার ভাবি বলেছেন, শিমুল হত্যার বিচারের সত্যটা হচ্ছে দিনদুপুরে একটি প্রকাশ্য হত্যার পরও মামলার আসামিরা স্বল্প সময়ে জামিনে বেরিয়ে গেছে। তারা রাজনীতি করেছে। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে। সঙ্গে ক্ষমতার দাপটে
মামলা তুলে নিতে হুমকিও দিয়েছে। এখন শিমুলের যুবক ছেলে সাদিকের প্রশ্ন– আমার বাবা সাংবাদিক শিমুল হত্যার বিচার আদৌ শেষ হবে কি? আমরা দুই ভাই, বোন ও মা পাব কি হত্যার বিচার? সাংবাদিক সাগর-রুনীসহ দেশের অনেক সাংবাদিক হত্যার বিচার আজও হয়নি।
মনে পড়ে, ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সমকালের জেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম খান রানা ভাই প্রথম আমাকে শিমুলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরটা দিয়েছিলেন। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রানা ভাই আবারও ফোন করে বললেন, শিমুল আর নেই! শিমুলের অকালমৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন হয়েছিল দেশের সাংবাদিক সমাজ। শিমুলের লাশের পাশে তাঁর সন্তান সাদিক ও তামান্না, মা, ভাইবোন, স্বজনের আহাজারি ও কান্না সবকিছুই এলোমেলো করে দিয়েছিল সেদিন আমাদের সবাইকে। একই সঙ্গে দেশে শিমুল হত্যার ন্যায়বিচার দ্রুত সময়ে শেষ করতে হত্যার পর থেকেই দেশের সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ অনেক সংগঠন বহু কর্মসূচি পালন করেছেন ও করে যাচ্ছেন।
আমরা চাই শিমুলসহ যত সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, তাদের হত্যার বিচার হোক। ২০২৬ সাল হোক শিমুলসহ সব সাংবাদিক হত্যার বিচার পাওয়ার বছর।
এম. আতিকুল ইসলাম বুলবুল: সমকালের তাড়াশ প্রতিনিধি
- বিষয় :
- স্মরণ
