ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস

নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিতকরণে প্রতিষ্ঠানের দায়

নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিতকরণে প্রতিষ্ঠানের দায়
×

নিরাপদ কর্মক্ষেত্র। এআই ছবি

মো. আবুল বরকাত

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:২১


প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হওয়া প্রতিটি মানু্ষের প্রত্যাশা হল কাজ শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরতে পারা। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ কাজের পরিবেশলাভ সবার অধিকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, স্বাস্থ্য মানে সম্পূর্ণ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের কর্মস্থল হয়ে ওঠে অনিশ্চয়তা, চাপ কিংবা ঝুঁকির উৎস। পেশাগত সুস্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২৮ এপ্রিল বিশ্বব্যপী পালিত হতে যাচ্ছে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দিবসটি চালু করে। নিরাপত্তা শুধু শারীরিক সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মানসিক ও সামাজিক সুস্থতাও এর অংশ। ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬’ নামে দিবসটি পালিত হবে বাংলাদেশেও। তবে প্রশ্ন থেকে যায়- বাস্তব চিত্রের পরিবর্তন হবে কবে?

এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ১৫ শতাংশ সংবাদকর্মী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার। ৭৯.৩ শতাংশ নারী ও ৮২ শতাংশ পোশাকশ্রমিক হয়রানি বা সহিংসতার শিকার হয়েছেন বা প্রত্যক্ষ করেছেন। একই চিত্র স্বাস্থ্য খাতেও। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ–এর গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার মধ্য দিয়ে গেছেন বা তা প্রত্যক্ষ করেছেন, যার প্রভাব পড়েছে তাঁদের মানসিক সুস্থতা ও কাজে।

অন্যদিকে, তাজরীন ফ্যাশন, হাশেম ফুড বা বেইলি রোডের মতো দুর্ঘটনা দেখিয়েছে, যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকলে কর্মক্ষেত্র মুহূর্তেই ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হতে পারে। এখনো অনেক স্থাপনায় জরুরি নির্গমনপথ বন্ধ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অপ্রতুল এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষিত। ফলে ছোট ভুলও বড় বিপর্যয়ে রূপ নেয়। এই বাস্তবতা শুধু মানবিক সংকটই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষতিরও কারণ। কর্মী হারানো, উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া ও সুনাম নষ্ট হওয়া— সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের শক্তি তার অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি ও অনুশীলন। স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও নীতিমালার সমান প্রয়োগ না থাকলে আস্থা ভেঙে পড়তে বাধ্য। এর সঙ্গে স্বজনপ্রীতি ও অফিস পলিটিক্স যোগ হলে দক্ষ কর্মীরা নিরুৎসাহিত হন। ভয় ও চাপের মধ্যে কাজ করলে মানুষ ধীরে ধীরে আগ্রহ হারায়, সৃজনশীলতাও কমে যায় দ্রুত। তাই মানসিক নিরাপত্তা অপরিহার্য। নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক নেতৃত্ব গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নিরাপত্তা একটি দিবস উদযাপন করলেই অর্জিত হয়ে যায় না; প্রতিনিয়ত এ লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। কর্মক্ষেত্র হবে জীবিকার জায়গা, ঝুঁকির নয়। যেখানে কর্মীরা নিরাপদ ও সম্মানিত, সেখানেই গড়ে ওঠে আস্থা, সৃজনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন। 

মো. আবুল বরকাত: উপ-পরিচালক, সিআইপিআরবি
[email protected] 

আরও পড়ুন

×