ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, মিথ্যা দাবি মেয়ের

পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, মিথ্যা দাবি মেয়ের
×

ফাইল ছবি

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ১৩:৩০ | আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ | ২১:৫১

বগুড়ার একটি থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্য তাঁর ১৭ বছর বয়সী মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পর পর দুটি অপহরণের মামলা করেছেন। তবে ওই কিশোরী ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেছে, স্বেচ্ছায় প্রেমিককে বিয়ে করে সে সংসার করছে এবং অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেন।

মামলার পর পুলিশ কিশোরীকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পরদিন আদালতে হাজির করে। কিশোরী আদালতে জবানবন্দিতে জানায়, ওই কিশোরকে সে বিয়ে করেছে। তাঁকে অপহরণ করা হয়নি। তবে বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় আদালত কিশোরীকে বাবার জিম্মায় দেন।

গত ১ মে কিশোরী আবারও পালিয়ে কিশোরের কাছে চলে যায়। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা ৭ মে আদমদীঘি থানায় আরেকটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।

ওই কিশোরী গত শুক্রবার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বলেন, আমাকে অপহরণের যে মামলা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার স্বামীর সঙ্গে চার বছরের সম্পর্ক। পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় অপহরণের অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমার বাবা হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা করেছেন।

অন্যদিকে ওই পুলিশ সদস্যের অভিযোগ, তাঁর মেয়ে এখনও নাবালক, তাঁকে ফুসলিয়ে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমবার মামলা করতে গেলে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁর কাছে ঘুষ দাবি করেন। তিনি বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে পরে মামলা গ্রহণ করা হয়।

তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ঘুষ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ সদস্যের মেয়ে মানে আমাদেরও মেয়ে। যথাসময়ে দুটি মামলাই গ্রহণ করা হয়েছে। এরপরও তিনি বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, এখনও তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন

×