সিপিবির সমাবেশে হামলা
বর্ষপূর্তির দিনে রায় আজ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫:১১ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫:৩৩
রাজধানীতে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা করা হবে। গত ১ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম হামলার বর্ষপূর্তির এ দিনে রায়ের তারিখ ধার্য করেন।
উনিশ বছর আগে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে দলটির পাঁচ কর্মী নিহত হন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ পলাতক ও কারাগারে থাকা সব আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছে। আসামিপক্ষ বলেছে, মামলার আসামিদের মধ্যে একজনের কথিত একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে। এর ভিত্তিতে আসামিদের দণ্ড দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ১৯ বছর পর অবশেষে মামলাটির রায় হতে যাচ্ছে। আশা করছি, প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা হবে। ঢাকা মহানগরের পিপি আবদুল্লাহ আবু বলেন, সাক্ষী এবং আসামিদের গরহাজিরের কারণে মামলাটির বিচারকাজ বিলম্বিত হয়েছিল। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি।
নৃশংস ওই হামলার ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন। এরপর আদালতের আদেশে ২০০৫ সালে আবার মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। সাত তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর সিআইডি পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ম্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
আসামিরা হলেন- হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আবদুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিরাজ ও নুর ইসলাম। এর মধ্যে শীর্ষ জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের মধ্যে মুফতি মঈন উদ্দিন, আরিফ হাসান সুমন, সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ কারাগারে থাকলেও আটজন পলাতক।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১০৬ সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জন সাক্ষ্য দেন। তবে আসামিপক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষ্য দেননি।
