তিন আসনে উপনির্বাচন
উচ্ছ্বাস না থাকলেও সর্বশক্তি দিয়ে লড়তে চায় বিএনপি
×
কামরুল হাসান
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:৫৬
তিন সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনকে নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন উচ্ছ্বাস না থাকলেও ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকবে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সর্বশক্তি দিয়ে ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এর জন্য সবার আগে তৃণমূলকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা। আসনভিত্তিক বিভিন্ন কমিটি গঠন, এলাকাভিত্তিক উপকমিটি গঠনসহ নানাবিধ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী যুদ্ধে নামতে চান তারা।
আগামী ২১ মার্চ ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪ ও গাইবান্ধা-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোট হবে।
গত সোমবার রাতে এই তিন আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবি, বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন এবং গাইবান্ধা-৩ আসনে অধ্যাপক ডা. মাইনুল হাসান সাদিক ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি মেয়র, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীদের প্রভাব বিস্তার, কারচুপি আর ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এরকম অভিযোগ করা হয়। ভোটে নানা রকম কারসাজির অভিযোগে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে বিএনপি কর্মীদের মধ্যে। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকেও অনেকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারছেন না।
কয়েকজন নেতা বলেন, এখন ভোট মানেই বিএনপির প্রার্থীদের নিশ্চিত হার। তবুও ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে নেতিবাচক প্রভাব থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন নির্বাচনকেন্দ্রিক আনন্দ-উল্লাস নেই। এরপরও আসন্ন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নেওয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হবে। ভোটারদেরও ভোটদানে উৎসাহিত করার কার্যক্রম শুরু করা করা হবে। নেতারা মনে করেন, যতবেশি ভোটারকে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারবেন তত বেশি বিএনপি প্রার্থীদের পাল্লা ভারী হবে। তাই বিএনপির প্রার্থীদের দুই দিকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একদিকে প্রতিপক্ষের কৌশলের মোকাবিলা, অন্যদিকে ভোটারদের নির্বাচনী মাঠে নিয়ে আসা। এজন্য কেন্দ্রীয়ভাবে গঠন করা হবে একাধিক টিম। সক্রিয় করা হবে স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও।
দলটির নীতিনির্ধারকরা আরও জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও কৌশলগত কারণেই এসব নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে। ভোটের জয়-পরাজয় দুটোকেই কাজে লাগাতে চান তারা। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হবেন। অন্যদিকে কারচুপি হলেও রাজনৈতিকভাবে সেটাকে ইস্যু করা যাবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনে ফলাফল কী হবে তা সবাই জানে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভোটমুখী হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সবার সংশয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশন ভোটের ব্যবস্থাকেই ভেঙে ফেলেছে। ভোট নিয়ে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কোনো উচ্ছ্বাস নেই। বিশেষ করে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচনের পর ভোট নিয়ে তারা আরও হতাশ হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নানান শঙ্কা আর সন্দেহে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয়ের গ্লানি থেকে মুক্ত থাকতে নির্বাচনে অংশগ্রহণে রাজি হচ্ছেন না। দলীয় মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেননি তারা। এ অবস্থায় তরুণ নেতাদেরই বেছে নিয়েছে দলটি। তবে এতে খুশি তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
ঢাকা-১০ আসনে এই প্রথম স্থানীয় কোনো নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির কার্যালয়ে এসে গতকাল সারাদিনই বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার করেন। ধানমন্ডি-কলাবাগান-নিউমার্কেট আর হাজারীবাগ নিয়ে গঠিত এই আসনের নেতাকর্মীরা জানান, ১৯৯০-পরবর্তী কোনো নির্বাচনেই স্থানীয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। অন্য জায়গা থেকে বড় নেতাদের এনে এখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে সবসময়ই নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী ওইসব হেভিওয়েট প্রার্থীদের আর খুঁজে পাওয়া যেত না। কিন্তু এবার নিজেদের মধ্য থেকে প্রার্থী করায় তারা সবাই একাট্টা হয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থী জয়লাভ করবেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। বয়সের কারণে এবার তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এবার এ আসনে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবিকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তিনি ধানমন্ডি বিএনপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শেখ রবিউল আলম রবি সমকালকে বলেন, তৃণমূল রাজনীতি থেকে তিনি উঠে আসায় এলাকার প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তার নির্বাচনী এলাকায় কোনো কোন্দল নেই। এটা তার জন্য আশীর্বাদ। নির্বাচনকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যতই চেষ্টা করুক তিনি বিনা বাধায় ছাড়বেন না। সুষ্ঠু ভোট আর জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য তিনি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বাগেরহাট-৪ আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে। তবে এখানে জামায়াতের বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। ১৯৯৬ সালের পর এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থীকে বিএনপি সমর্থন দেয়। তবে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে জামায়াত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এবার জেলা বিএনপির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপনকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম প্রার্থী না হওয়ায় শিপনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির হাতছাড়া ছিল। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এটা নিয়ে অনেক চাওয়া-পাওয়া ছিল। অনেক দিন পরে হলেও তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। উপনির্বাচনে সবাই একাট্টা হয়ে ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন বলে তিনি জানান।
কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি তার রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের মাঠে লড়াই করবেন।
গাইবান্ধা-৩ আসনটি এক সময়ে জাতীয় পার্টির দখলে থাকলেও বিগত ১০ বছর মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রয়াত ড. টিআই ফজলে রাব্বিকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তিনি মৃত্যুবরণ করায় পরবর্তী উপনির্বাচনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহণ করেনি। এবার এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ডা. মইনুল হাসান সাদিক সমকালকে বলেন, গত উপনির্বাচনে দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই নির্বাচন বয়কট করায় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এবারও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি এলাকায় ২৫ বছর ধরে বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গেও তিনি ২৩ বছর ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এলাকায় বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের অবস্থান এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ মনোভাব থাকায় নির্বাচনে তিনি জয়ী হবেন।
আগামী ২১ মার্চ ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪ ও গাইবান্ধা-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোট হবে।
গত সোমবার রাতে এই তিন আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবি, বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন এবং গাইবান্ধা-৩ আসনে অধ্যাপক ডা. মাইনুল হাসান সাদিক ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি মেয়র, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীদের প্রভাব বিস্তার, কারচুপি আর ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এরকম অভিযোগ করা হয়। ভোটে নানা রকম কারসাজির অভিযোগে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে বিএনপি কর্মীদের মধ্যে। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকেও অনেকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারছেন না।
কয়েকজন নেতা বলেন, এখন ভোট মানেই বিএনপির প্রার্থীদের নিশ্চিত হার। তবুও ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে নেতিবাচক প্রভাব থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন নির্বাচনকেন্দ্রিক আনন্দ-উল্লাস নেই। এরপরও আসন্ন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নেওয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হবে। ভোটারদেরও ভোটদানে উৎসাহিত করার কার্যক্রম শুরু করা করা হবে। নেতারা মনে করেন, যতবেশি ভোটারকে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারবেন তত বেশি বিএনপি প্রার্থীদের পাল্লা ভারী হবে। তাই বিএনপির প্রার্থীদের দুই দিকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একদিকে প্রতিপক্ষের কৌশলের মোকাবিলা, অন্যদিকে ভোটারদের নির্বাচনী মাঠে নিয়ে আসা। এজন্য কেন্দ্রীয়ভাবে গঠন করা হবে একাধিক টিম। সক্রিয় করা হবে স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও।
দলটির নীতিনির্ধারকরা আরও জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও কৌশলগত কারণেই এসব নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে। ভোটের জয়-পরাজয় দুটোকেই কাজে লাগাতে চান তারা। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হবেন। অন্যদিকে কারচুপি হলেও রাজনৈতিকভাবে সেটাকে ইস্যু করা যাবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনে ফলাফল কী হবে তা সবাই জানে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভোটমুখী হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সবার সংশয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশন ভোটের ব্যবস্থাকেই ভেঙে ফেলেছে। ভোট নিয়ে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কোনো উচ্ছ্বাস নেই। বিশেষ করে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচনের পর ভোট নিয়ে তারা আরও হতাশ হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নানান শঙ্কা আর সন্দেহে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয়ের গ্লানি থেকে মুক্ত থাকতে নির্বাচনে অংশগ্রহণে রাজি হচ্ছেন না। দলীয় মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেননি তারা। এ অবস্থায় তরুণ নেতাদেরই বেছে নিয়েছে দলটি। তবে এতে খুশি তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
ঢাকা-১০ আসনে এই প্রথম স্থানীয় কোনো নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির কার্যালয়ে এসে গতকাল সারাদিনই বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার করেন। ধানমন্ডি-কলাবাগান-নিউমার্কেট আর হাজারীবাগ নিয়ে গঠিত এই আসনের নেতাকর্মীরা জানান, ১৯৯০-পরবর্তী কোনো নির্বাচনেই স্থানীয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। অন্য জায়গা থেকে বড় নেতাদের এনে এখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে সবসময়ই নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী ওইসব হেভিওয়েট প্রার্থীদের আর খুঁজে পাওয়া যেত না। কিন্তু এবার নিজেদের মধ্য থেকে প্রার্থী করায় তারা সবাই একাট্টা হয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থী জয়লাভ করবেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। বয়সের কারণে এবার তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এবার এ আসনে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবিকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তিনি ধানমন্ডি বিএনপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শেখ রবিউল আলম রবি সমকালকে বলেন, তৃণমূল রাজনীতি থেকে তিনি উঠে আসায় এলাকার প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তার নির্বাচনী এলাকায় কোনো কোন্দল নেই। এটা তার জন্য আশীর্বাদ। নির্বাচনকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যতই চেষ্টা করুক তিনি বিনা বাধায় ছাড়বেন না। সুষ্ঠু ভোট আর জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য তিনি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বাগেরহাট-৪ আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে। তবে এখানে জামায়াতের বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। ১৯৯৬ সালের পর এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থীকে বিএনপি সমর্থন দেয়। তবে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে জামায়াত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এবার জেলা বিএনপির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপনকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম প্রার্থী না হওয়ায় শিপনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির হাতছাড়া ছিল। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এটা নিয়ে অনেক চাওয়া-পাওয়া ছিল। অনেক দিন পরে হলেও তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। উপনির্বাচনে সবাই একাট্টা হয়ে ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন বলে তিনি জানান।
কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি তার রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের মাঠে লড়াই করবেন।
গাইবান্ধা-৩ আসনটি এক সময়ে জাতীয় পার্টির দখলে থাকলেও বিগত ১০ বছর মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রয়াত ড. টিআই ফজলে রাব্বিকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তিনি মৃত্যুবরণ করায় পরবর্তী উপনির্বাচনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহণ করেনি। এবার এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ডা. মইনুল হাসান সাদিক সমকালকে বলেন, গত উপনির্বাচনে দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই নির্বাচন বয়কট করায় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এবারও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি এলাকায় ২৫ বছর ধরে বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গেও তিনি ২৩ বছর ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এলাকায় বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের অবস্থান এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ মনোভাব থাকায় নির্বাচনে তিনি জয়ী হবেন।
- বিষয় :
- উপনির্বাচন
