কৃষিখাতে বিশেষ বরাদ্দের দাবি গণসংহতি আন্দোলনের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:৫৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনা পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী নিয়োগ করে হাওরাঞ্চলের ধান কাটার ব্যবস্থা করা এবং অবিলম্বে কৃষিখাতে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা।
বিবৃতি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল আসন্ন হয়ে ওঠা খাদ্য সংকটের আশংকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে হাওরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা। হাওরের ধান আমাদের মোট খাদ্য চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ উৎস, সেই ধান পেকে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। অন্য বছরগুলোতে এসময় উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশ থেকে খেতমজুররা হাওরাঞ্চলে গিয়ে ধান কাটার কাজ করে থাকেন। কিন্তু এবছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী ‘লকডাউন’ চলছে, ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খেতমজুররা হাওরাঞ্চলে যেতে পারছে না, সেকারণে হাওরে পানি আসার আগেই ধান কাটা সম্পন্ন করার কাজ বিপুলভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাওরবাসীরা কৃষিশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ার যাওয়ারও আশংকা করছে।
গণসংহতি’র নেতারা আসন্ন হয়ে ওঠা খাদ্য সংকট নিরসনে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন কৃষি দপ্তরের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের মেশিন হাওরাঞ্চলে নিয়ে গিয়ে ধান কাটা, মাড়াই, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খেতমজুরদের হাওরাঞ্চলে নিয়ে আসার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
পাশাপাশি কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, যেসকল খেতমজুররা আশেপাশের এলাকা থেকে ধান কাটার কাজে যুক্ত হবেন তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করা ও সারাদেশের কর্মহীন ক্ষেতমজুরদের কাছে ভর্তুকি হিসেবে বিনামূল্যে চাল, খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ সরবরাহ করারও দাবি জানান নেতারা।
নেতারা আরো বলেন, বাজার ব্যবস্থা ঠিক রাখতে এই বোরো মৌসুমে ধান ছাড়াও অন্যান্য খাদ্যশস্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকাটা জরুরি। পাশাপাশি সেচব্যবস্থা নিরবিচ্ছিন্ন রাখা, সার-কীটনাশকের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাও আসন্ন সংকট নিরসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
