ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

করোনা দুর্যোগ

মানুষের পাশে রাজনৈতিক দল ও জোট

মানুষের পাশে রাজনৈতিক দল ও জোট
×

মোহাম্মদ নাসিম, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতার -ফাইল ছবি

অমরেশ রায়

প্রকাশ: ১২ মে ২০২০ | ০৮:২৯ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনা সংকট মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রথম থেকেই করোনায় দুর্গত ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে সারাদেশে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিএনপিও এমন ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এর বাইরের রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে ১৪ দল ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক বাম দলগুলোও সাধ্যমতো অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।      

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে অসহায়, দুঃস্থ ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এমপির নেতৃত্বে গত কয়েকদিনে ধানমণ্ডি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নিউমার্কেট ও মগবাজার এলাকায় এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, করোনার দুর্যোগময় পরিস্থিতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ১৪ দল। 

ঢাকা-৮ আসনের এমপি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে নিজ এলাকার কর্মহীন ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন। তার দল ওয়ার্কার্স পার্টি থেকেও ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। ১৪ দলের সহযোগী সংগঠন যুব মৈত্রী ও ছাত্র মৈত্রী থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্কসহ করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী তৈরি ও বিতরণ করা হয়েছে। রাশেদ খান মেনন সমকালকে বলেছেন, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ছাড়াও মানুষকে সচেতন করতে প্রচারপত্র বিলিও করেছেন তারা। করোনার সংক্রমণ পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত এই তৎপরতা চালিয়ে যাবেন তারা।     

১৪ দলের আরেক শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও (জাসদ) ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার সংসদ সদস্য হিসেবে তিনমাসের প্রাপ্য তাদের বেতন-ভাতা-সুযোগ সুবিধাদির সমুদয় টাকা এবং পরের নয় মাসের বেতন-ভাতা-সুযোগ সুবিধাদির অর্ধেক পরিমাণ টাকা সরকারের করোনা তহবিলে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারি ব্যয় কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতার বলেছেন, সব সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসবেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন তারা। 

বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক বাম দলগুলোও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। করোনার বিস্তারের শুরুতেই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) উদ্যোগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ফেস মাস্কসহ করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী তৈরি ও বিতরণ করা হয়েছে। দলের গণসংগঠন যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর পক্ষে সারাদেশে এমন কার্যক্রম চালানো হয়। দলের উদ্যোগে ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স টিম’ করোনা তহবিল গঠন করে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। দেশের প্রতিটি জেলায়ও দলের উদ্যোগে কন্ট্রোল রুম প্রতিষ্ঠা করে ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ ও মানুষের মধ্যে বিতরণ করছে। এছাড়া প্রচারপত্রের মাধ্যমে শ্রমজীবীদের বস্তি ও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসিক এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে সিপিবি।  

সিপিবি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স টিমে’র সমন্বয়ক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন দেশব্যাপী দলের ত্রাণ তৎপরতার সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির শুরুতেই সিপিবি সারাদেশে কয়েক লাখ সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করে। গত দুই মাসে দল ও গণসংগঠনগুলো প্রায় ৪ লাখ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ৫০ হাজারের বেশি ফেইস মাস্ক বিলি করেছে। ৫০ হাজারের বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা, ফুড-কোর্ট স্থাপন করে ৫ হাজারের বেশি প্যাকেট রান্না খাবার সরবরাহ করেছে। ২৪ ঘণ্টা টেলিফোনে সেবা প্রদান করছেন দলের চিকিৎসক প্যানেল। দুইটি জেলায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করেছে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বাম জোটের অন্য শরিক দলগুলোও এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছে। বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেছেন, করোনার এই দুর্যোগে সাধ্যমতো মানুষের পাশে রয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

×