সংস্কার নিয়ে বিএনপির প্রতারণা জনগণের সঙ্গে: বিরোধীদলীয় নেতা
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান। ছবি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২৩:০০
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি নেতারা অন্তহীন প্রতারণা দলিল বলায় সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপিই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনগণ বুঝবে না—এমন দাবি করা হলে বিএনপির ৩১ দফাও জনগণ বোঝেনি বলেই ধরে নিতে হয়। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণকে মূর্খ বলা হয়েছে।
গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বুধবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমম বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে শফিকুর রহমান বলেন, ‘নতুন হোক বা পুরোনো—কোনো ফ্যাসিবাদই আমরা মেনে নেব না। জেল-জুলুমের ভয় দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। গণভোটের রায়ের অবমাননা সহ্য করব না, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সেই রায় বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট তাজুল ইসলাম। বক্তৃতা করেন মানবাধিকার কর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, জুলাই শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, আহত জুলাই যোদ্ধা কামরুল আহসান প্রমুখ।
জুলাই যোদ্ধাদের অবমাননা না করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলের নেতা বলেন, ‘কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে জুলাইকে অপমানের চেষ্টা করলে জনগণই তার জবাব দেবে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১ দলকে 'হারানোর ষড়যন্ত্রে' অন্তর্বর্তী সরকার জড়িত ছিল অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেছেন, যাদের পরিচয় ছিল দল নিরপেক্ষ। তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। নির্বাচনের রায় আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কারণ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলে, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো কেউ জানে না। ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, নির্বাচনের রায়কে মেনে নিলেও গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করতে দেব না। অনেক নাটকের পর নির্বাচন হয়েছে। পরে বলা হল নির্বাচনের জন্য তারা অনেক কিছু মেনে নিয়েছিল। জনগণকে তারা মূর্খ বলতে চাইছে। তারা বলে জনগণ না বুঝেই গণভোটে রায় দিয়েছে। ১৭ বছর তারাও মজলুম ছিল। কিন্তু অনেকেই জেলে যায়নি, তারা শহীদ পরিবারের হাহাকার বুঝবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট। মৌলিক পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের আকাঙ্খার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া হবে না।
প্রধনামন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে কর্নেল অলি বলেন, আপনার সরকার এ পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেগুলোর প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়েছি। ভারতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। চারদিকে শত্রু পরিবেষ্টিত অবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আমরা যদি আপনার সমালোচনা করি, তা প্রকাশ্যেই করি। কিন্তু আপনার আশপাশে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা প্রকাশ্যে নয়, গোপনে আপনার এবং দেশের ক্ষতি করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকা এবং ঢাকার বাইরে রাতে অবস্থান না করার পরামর্শ দেন কর্নেল অলি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, বিএনপি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক ধারার বাইরে ঠেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। অতীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু আন্দোলনের পর ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি অনেক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে বারবার আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবার তাই তাদের ওপর নির্ভর নয়, নিজস্ব রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তুলছি।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ৩১ দফায় জনগণকে আশ্বস্ত করেছিল, তারা শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থারও মৌলিক সংস্কার চায়। কিন্তু মুখে তারা সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিরোধিতা করেছে। জনগণ গণভোটে যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ই সর্বোচ্চ। জনগণের রায়কে খণ্ডিতভাবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তৃতা করেন নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার চৌধুরী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বিডিপির চেয়ারম্যান একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।
- বিষয় :
- জামায়াতে ইসলামী
- সেমিনার