ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

আলজাজিরার বিশ্লেষণ

ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে লাগতে পারে দীর্ঘ সময়

ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে লাগতে পারে দীর্ঘ সময়
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২৩:০০

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সমঝোতা হওয়ার তিন সপ্তাহ পার হলেও পরিস্থিতি এখনও বেশ নাজুক। আগামী সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকারে হামলা এবং গত বুধবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও নিয়মিত সেনাবাহিনী বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষই এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত যদি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়, তবুও ইরানের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অনেক সময় লাগবে। ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন শেষ হওয়া ফারসি খোরদাদ মাসে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৩৪ শতাংশে ঠেকেছে। এর মধ্যে তেল ও চর্বিজাতীয় পণ্যের দাম ২৭৮ শতাংশ, মাংসের দাম ১৭৮ শতাংশ এবং রুটি ও খাদ্যশস্যের দাম প্রায় ১৩৯ শতাংশ বেড়েছে।

সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ বলা হলেও শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ৪০ শতাংশ। বর্তমানে ইরানে মাসিক সর্বনিম্ন মজুরি মাত্র ৯৫ ডলারের সমান, যেখানে প্রতি ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দাম ১৭ দশমিক পাঁচ লাখে ঠেকেছে। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরানের তথ্যমতে, গত বছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাইনাস শূন্য দশমিক সাত শতাংশে নেমেছে।

ভিয়েনা ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক স্টাডিজের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মাহদি ঘোদসি মনে করেন, সামরিক উত্তেজনা কমলে এবং যোগাযোগ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হলে সেবা খাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসার কর্মীরা দ্রুত কাজে ফিরতে পারবেন। তবে যেসব কারখানা যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল বা শ্রমিক হারিয়েছে, সেগুলো চালু করা সহজ হবে না।

আরও পড়ুন

×