পশ্চিমবঙ্গে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা: পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মূল অভিযুক্ত
প্রতীকী ছবি
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৮:১৩
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে বারুইপুর থানা এলাকা এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালায় বলে দাবি করেছে বারুইপুর পুলিশ। বুধবার সকালে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সূর্যপুর এলাকায় ঘটনাস্থলে প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঘটনার পুনর্নির্মাণ চলাকালে তিনি এক পুলিশ সদস্যের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। এরপর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমে তাকে সতর্ক করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এনকাউন্টারের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তও হতে পারে।
রোববার শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পরপরই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন বলে দাবি পুলিশের। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই শিশুকে ডেকে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। পরে যৌন নির্যাতনের পর শিশুটিকে বস্তাবন্দি করে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা যায়, অচেতন অবস্থায় নাবালিকাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতেই মামলার আরেক পলাতক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্য দিয়ে মামলার চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, রেল ও সড়ক অবরোধ, পুলিশের ওপর হামলা এবং গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বন্দুকযুদ্ধ
- পশ্চিমবঙ্গ