ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাধা
থানায় মামলা, বিএনপি নেতাসহ ৯ জন আসামি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ষ্টেশনবাজার সংলগ্ন ছালপট্টি বাজারে প্রশাসনের অভিযান। ছবি- সংগৃহীত
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২২:২৫ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২২:২৯
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাধা দেওয়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের করা মামলাটি নথিভুক্ত করে পুলিশ। এতে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম জিলালসহ দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অপর আসামি হলেন–সদকী ইউনিয়নের মালিয়াট গ্রামের হাকিম প্রামাণিকের ছেলে ও ভুসিমালের ব্যবসায়ী জিলাল প্রামাণিক (৪৭)। বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম জিলাল কুমারখালী ছালপট্টি বাজার মালিক সমিতির সভাপতি পদেও আছেন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমারখালী স্টেশনবাজার-সংলগ্ন ছালপট্টি বাজারে অভিযানে যান জেলা প্রশাসনের একটি দল। এ সময় নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পশুখাদ্য রাখার অপরাধে খোকন ট্রেডার্সের মালিক সাইদুল ইসলাম খোকনকে ৪ হাজার টাকা, প্রণব ট্রেডার্সের মালিক প্রণব কুমার ঘোষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালত পরিচালনায় ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিলকদ হোসেন। তাঁকে সহায়তায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন ও কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের সদস্যরা। এ সময় আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আদালত পরিচালনায় বাধা দেন। তারা তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা শুরুতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কিলঘুষি মেরে সটকে পড়েন।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। গভীর তদন্ত চলছে। পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।
বুধবার বিকেলে ছালপট্টি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাজার নীরব। দোকানে আসেননি বাজার কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম জিলাল। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ। মঙ্গলবারের অভিযোগে জরিমানা দেওয়া সাইদুল ইসলাম খোকন সমকালকে বলেন, ‘ছালের বস্তায় মেয়াদ না থাকায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। জরিমানা দিয়ে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। পরে কী হয়েছে তা জানা নেই। এসব নিয়ে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’
অপর ব্যবসায়ী প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন, তা পরিশোধ করেছি। কোনো হামলা, হাতাহাতি বা মারামারি হয়নি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল মাত্র।’
এ বিষয়ে মামলার বাদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘একটা মামলা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। আপনি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুন।’ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিলকদ হোসেনের নম্বরে কল দিলে তিনিও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি পরামর্শ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলতে। কল দিলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই।
- বিষয় :
- কুষ্টিয়া
- ভ্রাম্যমাণ আদালত