ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নেই দুই মাস, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নেই দুই মাস, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ
×

ফাইল ছবি

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২২:১১

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই মাস স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ শূন্য। এতে হাসপাতালের দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জুন মাসের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। ডিডিও (ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার) ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা না থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌস পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র বদলি হন। এরপর সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. বাদল কুমার সাহাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর নামে ডিডিও ক্ষমতা অনুমোদিত না হওয়ায় হাসপাতালের কোনো ধরনের আর্থিক বিল অনুমোদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে গত জুন মাসের বেতন-ভাতা এখনও পাননি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, কারিগরি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দুই শতাধিক জনবল কর্মরত। জুন মাসের বেতন না পেয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে ভুগছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ নার্স মনিকা আক্তার বলেন, জুন মাসের বেতন এখনও পাইনি। জুলাই মাসও অনেকটা চলে গেল, কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানের পড়াশোনা এবং অন্যান্য ব্যয় মেটাতে সংকটে পড়েছি। দ্রুত একজন ডিডিও ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা যোগদান করলে আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারব।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ মো. মশিউর রহমান বলেন, ডিডিও ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা না থাকায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করলেও আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় কোনো বিল অনুমোদন করা যাচ্ছে না। ফলে দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন আটকে আছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাদল কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। শিগগিরই একজন নিয়মিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এখানে যোগদান করবেন বলে আমরা আশাবাদী। নতুন কর্মকর্তা যোগদান করলে ডিডিও-সংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধসহ সব আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটি শূন্য হওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি পরে বাতিল হয়। বর্তমানে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে একজন নিয়মিত কর্মকর্তা যোগদান করবেন। তখন বেতন-ভাতাসহ সব প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার সমাধান হবে।

আরও পড়ুন

×