অনিয়মে বরখাস্ত রেজিস্ট্রারকে কাজে ফেরাল কুবি প্রশাসন
ফাইল ছবি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২২:০৮
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত মজিবুর রহমান মজুমদার রেজিস্ট্রার পদে ফিরেছেন। অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে হাইকোর্টের সর্বশেষ স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে পুনরায় দায়িত্ব পালনের অনুমতি দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসন।
গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার দলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (সাময়িক বরখাস্ত) মজিবুর রহমান মজুমদারের আবেদন এবং হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে রেজিস্ট্রার পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তাকে পুনরায় একই পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়ায় চলছে সমালোচনা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মজিবুর রহমান মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম ও জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯ অনুযায়ী রেজিস্ট্রার পদটি তৃতীয় গ্রেডভুক্ত। কিন্তু অর্গানোগ্রাম সংশোধন ছাড়াই দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি গ্রহণ করেন তিনি। এই প্রক্রিয়ায় নিজের পদোন্নতির ফাইলে নিজেই স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে পদোন্নতি-সংক্রান্ত রিভিউ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অথচ প্রশাসনিক বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নিজের নিয়োগ, পদোন্নতি বা তদন্ত-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হতে পারেন না। এ ছাড়া শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। অডিট মেমো-১০ অনুযায়ী, তৃতীয় গ্রেডের পরিবর্তে দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন-ভাতা গ্রহণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ লাখ ২৭ হাজার ৯৮০ টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা ফেরতযোগ্য।
অডিট মেমো-১১তে শিক্ষা ছুটির চুক্তিপত্র ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে পিএইচডি সম্পন্ন না করেই চাকরিতে যোগদান এবং ছুটিকালীন বেতন-ভাতা নেওয়ায় আরও ২০ লাখ ১৪ হাজার ১৪০ টাকা ক্ষতির তথ্য উঠে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ছুটি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা ছুটি অসম্পূর্ণ রেখে যোগদান করলে ছুটিকালীন বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার বিধান থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩ মার্চ তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
জানা যায়, বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর অফিস আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন মজিবুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বাধ্যতামূলক ছুটির আদেশের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। পরে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানা যায়। পরে তিনি পুনরায় উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি হাইকোর্ট থেকে রায় নিয়ে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করতে পারে। তবে পুনরায় আপিল না করা এবং কোন বিবেচনায় তাঁকে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল বলেন, মজিবুর রহমান এর আগেও দুই দফা হাইকোর্টের রায় নিয়ে এসেছেন। সর্বশেষ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- বিষয় :
- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- রেজিস্ট্রার