পদবঞ্চিত কারা আমি জানি না: যুবদল সভাপতি
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৭:২৯
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ সম্পর্কে জানেন না সংগঠনের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেন, কমিটিতে পদবঞ্চিত কারা তাও তিনি জানেন না।
যদিও কয়েক সপ্তাহ ধরে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীরা আন্দোলন করে আসছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করে কমিটি গঠনে নানা অনিয়ম, পক্ষপাতিত্বের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মহাসচিবকে অবগত করেন- এক সময়ের প্রভাবশালী যুবদল এখন মৃতপ্রায়। পকেট কমিটিতে অনেক ত্যাগীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর নয়া পল্টনের একটি হোটেলে সমসাময়িক রাজনীতি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুবদল সভাপতি এক প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকটকে পাস কাটিয়ে যান।
তবে মুন্না বলেন, ‘আগের কমিটি ২৫১ সদস্যের। এবার ১৫১ হয়েছে। এমনিতেই ১০০ বাদ। এটাকে পদ বঞ্চিত বলেন? আমরা দেখেছি যারা মানববন্ধন বা অনশন করছেন তাদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০-২১ জন। এই সংখ্যাকে এত গুরুত্ব দেন আপনারা? এখন যারা পদেরে বাইরে আছে তারা আবেদন দিতে পারেন। ত্যাগের কথা বলছেন, যারা কমিটিতে এসেছেন তাদের প্রত্যেকের ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। চিন্তার বাইরের ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে, এসব রেকর্ড আপনাদের দিতে পারি। দিতে গেলে রাত ১০টা বেজে যাবে।’
তিনি বলেন, শক্তিশালী ও গতিশীল করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মোনায়েম মুন্না বলেন, যুবসমাজকে সংগঠনের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে রক্তদান, ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একইসঙ্গে যুবদল-সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশে তথ্য যাচাইয়ের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
কথায় কথায় নেতাকর্মীদের বহিষ্কার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মোনায়েম মুন্না জানান, সংগঠনটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী। বেআইনি, অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে।
যুবদল সভাপতি জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না। সংগঠনের সুনাম ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ভবিষ্যতেও কঠোর নীতি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
বিগত আন্দোলনে যুবদলের ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুবদলের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ এবং শত শত নেতাকর্মী আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। যার ক্ষত অনেকেই এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন।
বিগত সময়ে যুবদলের সামাজিক কর্মকাণ্ড
বিগত সময়ে যুবদল বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরেন যুবদল সভাপতি। তিনি জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৭৮ পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান, আন্দোলনে নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের জন্য এফডিআর ও নগদ সহায়তা, নদী-খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সেতু ও ব্রিজ নির্মাণ, কৃষকদের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, অসহায় ও রোগাক্রান্ত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা এবং গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক সহায়তায়ও ভূমিকা রেখে আসছে।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার
গত ৪ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর যুবদল দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে আব্দুল মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেন, এ সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক জরুরি সভা, ঢাকা বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করা হয়।
যুবদল সভাপতি বলেন, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অপপ্রচার ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে ‘সাংগঠনিক সপ্তাহ’ ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিগুলোতে কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি অংশ নেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ১০ বিভাগে ৩১টি টিম গঠন করা হয়। পরে বিভাগীয় টিমগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় ৫ ও ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে যুবদল সভাপতি বলেন, পদবঞ্চিত কারা আমি জানি না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, যুগ্ম সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল প্রমুখ।