ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

‘আলোচনা ছাড়া ঢাকায় মানবাধিকার মিশন চালুর সিদ্ধান্ত ন্যায়সঙ্গত হয়নি’

হেফাজতে ইসলামের গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

‘আলোচনা ছাড়া ঢাকায় মানবাধিকার মিশন চালুর সিদ্ধান্ত ন্যায়সঙ্গত হয়নি’
×

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আয়োজনে গোলটেবিল আলোচনা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৫ | ০০:৪৪

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের কার্যালয় চালুর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা বলছেন, এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এই অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ন্যায়সঙ্গত হয়নি। এখানে মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে যদি দেশের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করা হয়, সেটিও সবার চিন্তা করতে হবে। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আয়োজনে গোলটেবিল আলোচনায় নেতারা এসব কথা বলেন। ‘ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস সংক্রান্ত চুক্তিকে কেন্দ্র করে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান হয়। 

বক্তারা আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন যাতে তাদের নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া অন্য কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে না পারে, তাই সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বসে এরও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। 

আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে যে মানবাধিকার পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক খারাপ পরিস্থিতি গাজায়। ফিলিস্তিন, আরাকানসহ বিভিন্ন জায়গায় মুসলমানদের ওপর অনেক অত্যাচার হচ্ছে। সেখানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা দেখতে পাই না।

তিনি বলেন, এখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যু আছে। সেখানে মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে যদি দেশের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করা হয়, সেটিও আমাদের চিন্তা করতে হবে। 

ঢাকায় জাতিসংঘের নতুন আবাসিক প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়ে একটি ‘সাংঘাতিক’ খবর আছে বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তাঁরা শুনতে পেয়েছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বর্তমান আবাসিক প্রতিনিধির মেয়াদ শেষের দিকে। তাঁর স্থলে যিনি আসবেন, তাঁর ব্যাপারে তাঁরা কিছু আপত্তিকর কথা শুনেছেন। হয়তো বাংলাদেশ সরকার তাঁকে অনুমতি দেওয়ার আগে বিষয়টি বিবেচনায় নেবে। তিনি এর বেশি খোলাসা করে বলতে চান না। কারণ, বিষয়টি স্পর্শকাতর। 

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, এই কার্যালয় চালুর বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে আমরা কারও মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারবো না। এক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের জন্মদাতা ও আশ্রয়দাতা রাস্ট্রের ষড়যন্ত্রকেও বিবেচনায় রাখা হবে। 

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অবস্থা এমন যে পুলিশ ঘুষ খায়, আবার ঘরে চুরি হলে পুলিশকেই ফোন করতে হয়। মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টিও একই রকম। সরকার ভারতীয় অপপ্রচার ঠেকাতে এমন মিশন আনতে চাইছে বলে তাঁদের জানিয়েছে। সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলো ছাড়াই চুক্তি করে অন্যায় করেছে। তবে এখন আমাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। আমরা যে চুক্তি দিবো এর নীতিমালার বাইরে যদি মানবাধিকার কমিশন কাজ করে তবে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকার শব্দকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই মিশন স্থাপিত হলে বিপদ আরও ঘনীভূত হবে। 

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাহফুজুল হক, সালাউদ্দিন নানুপুরী, আহমদ আলী, মহিউদ্দিন রাব্বানী, জাতীয় ওলামা মাশায়েখের মহাসচিব রেজাউল করিম এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল হক।

আরও পড়ুন

×