৫ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ, ভোটারদের কৃতিত্ব দিলেন তাসনিম জারা
তাসনিম জারা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০১:৪০
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডা. তাসনিম জারা। সে লক্ষ্যে তার আসনের অন্তত এক শতাংশ বা অন্তত ৪৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিলো। তাই, গত সোমবার তার নির্বাচনী আসনে একাধিক বুথ বসিয়ে সেই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু করেন তাসনিম। পরবর্তীতে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
সোমবার রাতে নিজের ভেরিভাইড ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া পোস্টে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাক্ষর দেওয়ায় ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জারা। এছাড়া অল্প সময়ে এই অসাধ্য সাধনের কৃতিত্বও মানুষকে দিয়েছেন তিনি।
আবেগঘন ওই স্ট্যাটাসে প্রায় ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘এই কৃতিত্ব আমার নয়, বরং আপনাদের (ভোটার)। যারা শীতের সকালে কিংবা গভীর রাতে কর্মব্যস্ত দিনেও বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে এসে স্বাক্ষর করেছেন এবং অন্যদের স্বাক্ষর করতে উৎসাহিত করেছেন।’
তিনি বলেন, ওই মায়ের কথা কীভাবে ভুলি, যিনি হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বললেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মেয়ে ফোন করে বকুনি দিয়েছে, ‘এখনো বুথে যাওনি কেন?’ এই কৃতিত্ব সেই কলেজ শিক্ষার্থীদের যারা স্বেচ্চাসেবক দল গঠন করে শেষ মুহূর্তে ৫০টি স্বাক্ষর এনে দিয়েছিলো।
এই কৃতিত্ব সেই চাচার, যিনি আমাদের কথা শুনে ১০টি স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন, ‘দেখি কিছু করতে পারি কি না’। এই কৃতিত্ব সেই মা-মেয়ের, যারা স্বাক্ষর করে আরও ফরম নিলেন, পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে আবার স্বাক্ষর নিয়ে ফিরে এলেন। পোস্টে তিনি তার বন্ধু এবং সহকর্মীদের হার না মানার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, একজন দাদু সন্ধ্যায় এসে দোয়া করে দিয়েছিলেন। তখন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, পরদিন সকালে অন্তত ২০টি স্বাক্ষরসহ ফিরবেন। তিনি সত্যিই পরদিন এসে ফরম হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘দেখো, মা। আমি আমার কথা রেখেছি’। সেই আন্টির প্রতিও কৃতজ্ঞতা, যিনি কানে কানে বলেছিলেন, ‘কখনো পিছু হটবে না। আমরা আছি।’
আমি সত্যিই আর কিছু বলতে পারছি না।
- বিষয় :
- এনসিপি
- তাসনিম জারা
