ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করলেন মেঘমল্লার বসু
মেঘমল্লার বসু
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৪১
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মেঘমল্লার বসু সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাঈন আহমেদও পদত্যাগ করেছেন।
শনিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদের দাখিল করা পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করলে সাংগঠনিক মতদ্বৈধতা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) সৃষ্টি হতে পারে। এ বিবেচনায় তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এতে আরও বলা হয়, তাদের পদত্যাগের কারণ ও রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি নাজিফা জান্নাতকেও ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন জানায়, সংগঠনের আদর্শ ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো ও নীতির পরিপন্থি।
এতে বলা হয়, ছাত্র ইউনিয়ন বিদায়ী নেতাদের দায়িত্ব পালনকালীন অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সফলতা কামনা করছে। পাশাপাশি সংগঠনটি শিক্ষার অধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগের মতোই দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের উদ্যোগে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের’ (এনপিএ) যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় ১০১ সদস্যের কাউন্সিলে যুক্ত হন মেঘমল্লার বসু এবং মাঈন আহমেদ।
এ দিকে পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার কথা জানিয়ে ফেসবুকে মেঘমল্লার বসু লিখেছেন, ছাত্র ইউনিয়ন আমার কাছে একটা স্কুলের মতো। রাজনৈতিক শিক্ষার স্কুল। স্কুল শেষ করে একেকজন মানুষ একেক জায়গায় যায় বটে, কিন্তু স্কুলের আইডেন্টিফিকেশনটা একটা মার্কারের মতো থেকে যায়। ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ঠিক সেভাবেই আমার মধ্যে থেকে যাবে। তিন 'স' এর বিরুদ্ধে (স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা) ছাত্র ইউনিয়নের যে লড়াই, তা চলমানই থাকবে। নতুনেরা পুরানোদের হাত থেকে সাগ্রহে ব্যাটন নিয়ে নেবে। লড়াই থামবে না।