জামায়াত এমপির খুতবায় বিএনপির বাধা
পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে গতকাল জুমার নামাজের সময় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীর হাতাহাতি- সমকাল
পাবনা অফিস ও সাঁথিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৬ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১৩:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকায় জুমার নামাজ ও খুতবা পড়ানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের ঠিক পূর্বমুহূর্তে আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরের এই ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে যান। তিনি খুতবা দিতে শুরু করলে সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এতে করে সংসদ সদস্যের সামনেই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতেই জুমার নামাজ সম্পন্ন হয়।
পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি বহিরাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে জোরপূর্বক ইমামের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে বক্তব্য ও খুতবা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে মুসল্লি ও বিএনপি কর্মীরা আপত্তি জানালে জামায়াত-শিবিরের লোকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। বাড়ি ফেরার পথে তাদের হামলায় ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা রাহাত (২২) ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন।’
উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির আনিসুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মসজিদ কমিটির অনুমতি ও স্থানীয়দের আহ্বানে এমপি মহোদয় সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি বক্তব্য শেষে খুতবা দেওয়ার সময় বিএনপির কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।’
জামায়াত এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘আমি কোনো ক্ষমতা দেখাতে যাইনি, স্থানীয় মুসল্লিদের আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতারা বাইরের লোক এনে পবিত্র মসজিদের ভেতর পরিকল্পিতভাবে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন। নামাজ শেষে তারা আমাদের কর্মীদের দোকানে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। এতে পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কথা অস্বীকার করে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, ‘ঝামেলার আগাম সংবাদ পেয়ে আগে থেকেই মসজিদে পুলিশ মোতায়েন ছিল। খুতবার আগে কথা কাটাকাটি ও সামান্য ধাক্কাধাক্কি হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।