ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মেসি কি তবে ব্রাজিলেরও? গবেষণায় উঠে এলো নতুন তথ্য

মেসি কি তবে ব্রাজিলেরও? গবেষণায় উঠে এলো নতুন তথ্য
×

গ্রাফিক্স- গোলডটকম

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১৬:২৭ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৩২

স্পেনের ফুটবল একাডেমিতে বেড়ে ওঠায় একসময় লিওনেল মেসিকে নিজেদের দলে পাওয়ার আশা করেছিল স্পেন। আবার পিতৃসূত্রের কারণে ইতালিও তাকে নিয়ে আক্ষেপ করতে পারে। এবার সামনে এসেছে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য। ইতালীয় এক গবেষকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মেসির মাতৃসূত্রের পারিবারিক ইতিহাসের একটি অংশ জড়িয়ে আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সঙ্গে।

ইতালীয় ইতিহাসবিদ ও ব্যাংকার ফিওরেঞ্জো সান্তিনির দীর্ঘ গবেষণায় উঠে এসেছে মেসির মাতৃসূত্রের বংশলতিকা। মূল সূত্র ছিল মেসির পুরো নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি-র শেষ পদবি ‘কুচ্চিত্তিনি’।

সান্তিনির গবেষণা অনুযায়ী, মেসির পিতৃসূত্রের প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৯৩ সালে ইতালির মাচেরাতা প্রদেশের রেকানাতি থেকে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমান।

অন্যদিকে মাতৃসূত্রের ইতিহাস শুরু হয় ইতালির সান সেভেরিনো মার্কের বাসিন্দা রানিয়েরো কোচেত্তিনিকে দিয়ে। স্ত্রী রোজা রিক্কেজ্জা ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ওয়াশিংটন’ নামের জাহাজে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান। সাও পাওলোর ইমিগ্রেশন মিউজিয়ামে সেই যাত্রার নথি এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।

ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর সরকারি নথিতে বানান ও উচ্চারণের পরিবর্তনে রানিয়েরোর নাম হয় রামিয়েরো কনচেত্তিনি। তিনি সাও পাওলোর রিনকাও অঞ্চলের একটি খামারে কৃষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

ব্রাজিলে বসবাসের সময় রানিয়েরো ও রোজার ঘরে আরও দুই সন্তানের জন্ম হয়। ইতালির পৌরসভা সূত্র অনুযায়ী, ১৯০০ সালে জন্ম নেন এরমিনিয়া এবং ১৯০৪ সালে জন্ম নেন আরদেরিগো। সান্তিনির দাবি, এই আরদেরিগোই ছিলেন মেসির প্রপিতামহ। ব্রাজিলের রিবেইরাও প্রেতো অঞ্চলে জন্মনিবন্ধনের সময় তার নাম পরিবর্তন করে ফেদেরিকো করা হয়। একই সঙ্গে ‘কোচেত্তিনি’ পদবির রূপান্তর হয়ে দাঁড়ায় ‘কুচ্চিত্তিনি’। এর এক বছর পর, ১৯০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পুরো পরিবার ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

সেখানেই পরবর্তীতে জন্ম নেন মেসির নানা আন্তোনিও কুচ্চিত্তিনি, মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং এরপর ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি। অর্থাৎ তার প্রপিতামহের আর্জেন্টিনায় আগমনের ৮২ বছর পর জন্ম হয় মেসির।

সেলিয়া হচ্ছেন ব্রাজিলে ১৯০৪ সালে জন্ম নেওয়া ফেদেরিকোর নাতনি। সান্তিনি জানান, ইতালিতে ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গবেষণা এবং মেসির মায়ের এক চাচাতো ভাইয়ের দেওয়া নথি বিশ্লেষণের পর তিনি এই বংশপরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হন। তার গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।

এই তথ্য প্রকাশের পর ব্রাজিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই রসিকতা করে মেসিকে ব্রাজিলের জার্সিতে সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করছেন। গবেষণাটি মূলত মেসির পারিবারিক ইতিহাসের একটি অধ্যায় তুলে ধরে। এর সঙ্গে তার জাতীয়তা বা আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতার কোনো সম্পর্ক নেই।

আরও পড়ুন

×