খুলনা
রান্নার সময় সবুজ রং: মাংস বিক্রি কমেছে স্থানীয় বাজারে
ছবি: ফাইল
শেখ হারুন অর রশিদ, কয়রা (খুলনা)
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৩৬ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৪১
খুলনার পাইকগাছায় গরুর মাংস রান্নার পর সবুজ রং ধারণ করার ঘটনার পর স্থানীয় মাংসের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অজানা আতঙ্কে ক্রেতারা গরুর মাংস কিনতে চাইছেন না। এ সুযোগে মুরগী ও খাসির মাংস বিক্রি বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার গরুর মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানিয়েছেন, গত দুই তিন দিন মাংস বিক্রি আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এলাকার অনেক স্থানে গরুর মাংসের দাম কমিয়ে মাইকিং করা হয়েছে। তবে ক্রেতাদের আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কসাইরা।
পাইকগাছা পৌর বাজার ও কপিলমুনি বাজারের মাংস ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে গরুর মাংস বিক্রিতে ধস নেমেছে। অনেকেই দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন।
মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, গত বুধবার সকালে মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা মাংস কিনতে যান। এ সময় তাদেরকে দুইদিন আগের অবিক্রীত মাংস ফ্রিজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, সেই মাংস রান্নার পর সবুজ রং ধারণ করেছে। ঘটনার পর থেকে নিজেই আতঙ্কে আছি, ক্রেতাদের কথা কী বলবো।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক এসে তার ফ্রিজে রাখা মাংস পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছেন। পরীক্ষার ফলাফল না আসলে মাংস বিক্রি করবেন বলেও না জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পর পাইকগাছা উপজেলার পার্শ্ববর্তী কয়রা উপজেলায়ও গরুর মাংস বিক্রি কমে গেছে। এ উপজেলার কয়েকটি বাজারের মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শেখ সালাউদ্দিন আহমেদ নামে একজন স্কুলশিক্ষক বলেন, ফেসবুকে ঘটনা দেখার পর গরুর মাংস খাওয়ার আগ্রহ কমে গেছে।
আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খাবারে ভেজাল দেওয়া আমাদের দেশে স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কোনো প্রতিবাদ করে না। গরুর মাংসে না জানি কি অপদ্রব্য মিশিয়েছে তার রং পরিবর্তন হয়ে গেছে। এর আগে বাজারে গরুর মাংস দেখলে এক কেজি কিনতে মন চাইতো। পাইকগাছার ঘটনার পর গরুর মাংস কিনতে মন চাইছে না।
পাইকগাছা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম রায় বলেন, গরুর মাংস রান্নার পর সবুজ রং ধারণ করার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে গত দুই দিন গরু জবাইও অনেকাংশে কমে গেছে।
তিনি আরও জানান, এখানে নির্দিষ্ট কোনো কসাইখানা না থাকায় বিক্ষিপ্তভাবে গরুর মাংস বিক্রি হয়ে থাকে। কসাইদাররা গরু জবাইয়ের আগে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে রাতের বেলা মাংস কিনে এনে তা জবাই করা গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, গত বুধবার পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য গরুর মাংস কেনেন। রান্না করতে গিয়ে মাংসগুলো সবুজ হয়ে যায়। পরে রান্না করা মাংসভর্তি কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় যান তারা। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। বিষয়টি আমাদের কাছেও নতুন। কাঁচা ও রান্না করা—দুই ধরনের মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে তা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রোববার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন ল্যাবে পরীক্ষা করা সম্ভব এবং কী কী বিষয় পরীক্ষা করতে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো নমুনা পরীক্ষার জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট পরীক্ষার বিষয় (প্যারামিটার) ঠিক করে দিতে হয়। কিন্তু এ ঘটনায় কী পরীক্ষা করা উচিত, সেটিই আগে নির্ধারণ করতে হবে।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের বিষয়ে মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘মাংস পচে গেলে এভাবে সবুজ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। আমার ধারণা, কোনো একটি পদার্থ মাংসের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সবুজ রঙের সৃষ্টি করেছে। সেটি রান্নার সময় ব্যবহৃত কোনো উপাদান, পাতিল বা অন্য কোনো উৎস থেকেও হতে পারে। তবে পরীক্ষার ফল ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।’
- বিষয় :
- খুলনা