ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

এবি পার্টির সভায় বক্তারা

ফ্যাসিবাদের উত্থান রোধে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে 

ফ্যাসিবাদের উত্থান রোধে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে 
×
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২২:২৮

গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া ফ্যাসিবাদে পুনরুত্থান রোধে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের আগে সনদ বাস্তবায়ন না করে অন্তর্বর্তী সরকার অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। এখন জুলাই সনদ 'রেড লাইন'। যারা বাস্তবায়ন করবে না এর মূল্য চোকাতে হবে। 

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এবি পার্টির ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম প্রমুখ। 

মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিই ভুল ছিল। রাজনৈতিক পরিপক্বতা থাকলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে নির্বাচন দেওয়া হতো না। নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাহমুদুর রহমান বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যারা সনদে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা কার্যত জুলাই সনদের চেতনাকেই স্বীকার করতে চায় না। তারা বিপ্লব শব্দটি উচ্চারণ করতেও অস্বস্তি বোধ করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান বলেন, তারা তরুণদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্খা অনুধাবন করা হয়নি। 

জুলাইপন্থি দলগুলোর  বিভাজনের সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান বলেছেন, অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে।  বিভাজনমূলক বক্তব্যের দায় সরকারকেই নিতে হবে। এভাবে বিভাজন চলতে থাকলে দেশের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা কঠিন। 

তাজুল ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর তরুণদের বলা হচ্ছে,  ১৭ বছর ধরে যে জগদ্দল পাথর সরানো যায়নি, তরুণরা তা সরিয়েছে। লক্ষ্মণ সেনের মতো দুপুরের খাবার ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী। 

জুলাই সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, এখন ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে নানা ধরনের ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা চলছে। আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ অমান্য করা যাবে না। জুলাই সনদ আমাদের রেড লাইন।

শফিকুল আলম বলেন, জুলাই এখনো হারিয়ে যায়নি। জুলাইকে শুধু রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও ছড়িয়ে দিতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ যেন কোনোভাবেই আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই সংবিধান এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতার জন্য ড. ইউনূস সরকারকে উপহাস করে বলা হতো এনজিওগ্রাম সরকার। অব্যবস্থাপনা ও অযোগ্যতার জন্য বর্তমান সরকারকে অনেকে ‘লন্ডরি’ সরকার বলছে।

সভায় তারুণ্যের জুলাই ফাউন্ডেশনের নেতা সাগর উদ্দিন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন পুসাবের সংগঠক তালহা বিন আমীন, জুলাই ঐক্যের  রিয়াদুস ইসলাম জুবা, জুলাইযোদ্ধা লাবিব আহসান, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সংগঠক সাইয়েদ আহমেদ সরকার, জুলাই শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী নাবিল, জুলাই রেভ্যুলেশন ওয়াচের সংগঠক সানজিদ হাসান তানভীর, বৈষম্যবিরোধী কওমির সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান জুনায়েদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন। 

আরও পড়ুন

×