ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পুনরাবৃত্তি না পরিবর্তন

পুনরাবৃত্তি না পরিবর্তন
×

শাহেদ চৌধুরী

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৪৫

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরে কে থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? আবারও ওবায়দুল কাদের, নাকি নতুন কেউ? আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। চলছে নানামুখী হিসাবনিকাশ, বিচার-বিশ্নেষণ, জল্পনা-কল্পনা।

আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ২০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় দু'দিনের এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। দলের সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলর ২১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মাঠে নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য বসবেন।

কাউন্সিলরদের মতো সাড়ে সাত হাজার ডেলিগেট সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন। ১৫ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে উদ্বোধনী অধিবেশনে। এর মধ্যে কূটনীতিকরাও রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন।

সম্মেলনকে ঘিরে এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে পদ্মা সেতুর আদলে মঞ্চ তৈরির কর্মযজ্ঞ। মঞ্চটি হবে ডিজিটাল। যার উচ্চতা ২৮ ফুট, দৈর্ঘ্য দেড়শ' ফুট। প্রস্থ ১৪০ ফুট। ২৮টি এলইডি পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তুলে ধরা হবে। মঞ্চের প্রথম সারিতে বসবেন প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা। এরপর থাকবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এত সব আয়োজনের মধ্যে সবাই জানতে চাইছেন, কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক? কয়েক দিন আগেও ফলাও করে বলা হয়েছে, ওবায়দুল কাদেরই সাধারণ সম্পাদক পদে থাকছেন। তবে সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই পদে আরও কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আইন সম্পাদক ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান।

কেন্দ্রীয় এই নেতাদের মধ্যে কিছু নাম একেবারেই নতুন। তাদের নাম শুনে নেতাকর্মী অনেকে কিছুটা অবাক হলেও একেবারে অবিশ্বাস করছেন না। তাদের দৃষ্টিতে, সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহের তালিকা আরও বড় হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। কাউন্সিলররা তাকেই এ পদের নেতা নির্ধারণের দায়িত্ব দেবেন। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ভাবমূর্তির একজনকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেছে নেবেন বলে কাউন্সিলররা মনে করছেন। অবশ্য এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ধরনের আভাসও দেননি প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন, নভেম্বর মাসজুড়ে ধারাবাহিক সম্মেলনে আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের শীর্ষ দায়িত্বে আসা নেতাদের মধ্যে হাতেগোনা দু-একজন সম্পর্কে নেতিবাচক আলোচনা থাকলেও সিংহভাগই দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির। আওয়ামী লীগ সভাপতি এ নেতাদের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর প্রধান পদে এনে নতুন করে স্বচ্ছ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার আভাস দিয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করাসহ পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ পূর্ণতা পাবে। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে দলের বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদের প্রশ্নবিদ্ধ নেতারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের মতো পদ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন অনেকে। এ সংখ্যা ৫০-এর কম হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির একঝাঁক তরুণ নতুন কার্যনির্বাহী সংসদে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নানাভাবে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তারা নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক অফিসে পদপ্রত্যাশী নেতার উপচেপড়া ভিড় লেগেই আছে।

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকেন্দ্রিক এমনই তৎপরতার মধ্যে সর্বস্তরের নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের কাঠামোতে প্রত্যাশা করছেন। তারা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কেও কার্যনির্বাহী সংসদের কাঠামোতে দেখার প্রত্যাশায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাকে দলের কাউন্সিলর করা হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী সায়মা হোসেন পুতুল এবং দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে নেতাকর্মীদের আলোচনায় তাদের নাম আসছে।

এদিকে এবারের সম্মেলনে ছয়টি নির্দিষ্ট বিষয় আলোচ্যসূচিতে থাকবে। এগুলো হচ্ছে- শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও গ্রহণ, সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উত্থাপন ও অনুমোদন, ঘোষণাপত্রের সংশোধনী পেশ ও অনুমোদন, গঠনতন্ত্রের সংশোধনী ও অনুমোদন, সংসদীয় বোর্ড গঠন এবং গঠনতন্ত্রের ২০ ধারা অনুযায়ী ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ নির্বাচন। এবারের সম্মেলনের স্লোগান- 'শেখ হাসিনার নেতৃত্বে/বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ/এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ'। সম্মেলন ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা ধানমন্ডির কার্যালয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ১১টি উপকমিটির নেতারা সম্মেলনের কার্যক্রম প্রায় গুছিয়ে এনেছেন।

আরও পড়ুন

×