সাধারণ সম্পাদক
কাউকেই সবুজ সংকেত দেননি প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি
শাহেদ চৌধুরী
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩৭ | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০০:২৬
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের
সম্ভাবনা চাউর হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ নিয়ে কাউকেই কোনো সবুজ
সংকেত দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরে কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক- তা জানার জন্য নেতাকর্মীদের আজ শুক্রবার কিংবা আগামীকাল শনিবার
পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এই পদটিই রয়েছে এখন সবার কৌতূহলের কেন্দ্রে।
আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশের প্রাচীন
রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা দু'দিনের এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায়
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মাঠে দলের সাত হাজার ৩৩৭ কাউন্সিলর নতুন নেতা
নির্বাচন করবেন। কাউন্সিলরদের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি
শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আবারও আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হচ্ছেন- এ
নিয়ে কোনো সন্দেহ-সংশয় নেই। কাউন্সিলররা তাকে আবারও দলের সভাপতি নির্বাচিত
করবেন, এ বিষয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মী শতভাগ নিশ্চিত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা এই পদে আসতে না চাইলেও কাউন্সিলররা সেটি মেনে নেবেন না বলে মনে
করছেন দলের নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষায়, একমাত্র শেখ হাসিনাই আওয়ামী লীগের
নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
এ কারণে দলের সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন- এ নিয়েই নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা
সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেকে গতকাল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়
এবং প্রধানমন্ত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে সর্বশেষ খবর জানার
চেষ্টা করেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন মঞ্চ তৈরির কার্যক্রম
দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন; কিন্তু কেউই
সদুত্তর পাননি।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতাও গতকাল গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর
মনোভাব জানার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এ নিয়ে তারা আওয়ামী লীগ সভাপতির কোনো
মন্তব্য কিংবা মনোভাব জানতে পারেন নি। গতকাল রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের,
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান,
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা.
দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক
বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম,
কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন ও যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।
তবে কারও সঙ্গেই দেখা করেননি প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে গতকাল রাতে ওবায়দুল কাদেরের কাছে দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক পদে
আবারও তার সম্ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি
সমকালকে বলেছেন, 'আমি এ ব্যাপারে কিছুই বলব না। আমি ওয়াদাবদ্ধ।' তবে গতকাল
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন এমন কয়েকজন নেতা সমকালকে
জানিয়েছেন, সার্বিক অবস্থা বিচার-বিশ্নেষণ করে মনে হচ্ছে ওবায়দুল কাদেরই
সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন।
গতকাল দিনভর নেতাকর্মীদের মধ্যেও ওবায়দুল কাদেরের সম্ভাবনা নিয়েই বেশি
আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে নানামুখী হিসাব-নিকাশ, বিচার-বিশ্নেষণ থেকে শুরু করে
ব্যাপক জল্পনা-কল্পনাও চলছে। তাদের আলোচনায় ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি আরও
কয়েকজন নেতার নামও এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর
রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি,
অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ
মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং আইন সম্পাদক
অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দৃষ্টিতে, জাতীয় সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর
প্রথমে সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী নেতৃত্বের তালিকা বড় হলেও এখন তা কমে
গেছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরুর পর সাধারণ সম্পাদক পদের
দৌড়ে আগ্রহী নেতাদের প্রতিযোগিতা আরও কমে আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই দলের সাধারণ সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন করবেন।
কাউন্সিলররা তাকেই এই দায়িত্ব দেবেন। সেক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ
ভাবমূর্তির একজনকেই প্রধানমন্ত্রী বেছে নেবেন বলে কাউন্সিলররা মনে করছে।
কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, সাধারণত জাতীয় সম্মেলনের তিন-চার দিন আগে
থেকেই দলের সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসছেন তা জানা যেত। কিন্তু এবারের চিত্র
একেবারেই ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনরাও এবার চুপচাপ আছেন। তবে
সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানাভাবে তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন।
এদিকে নেতাকর্মীরা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের
কাঠামোতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রত্যাশা করলেও তা হচ্ছে না।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও
যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বঙ্গবন্ধুর আরও তিন
দৌহিত্র সায়মা হোসেন পুতুল, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও ববি আজমিনা সিদ্দিক
রুপন্তীকে এবারও কার্যনির্বাহী সংসদে আনা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সায়মা
হোসেন পুতুল, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও ববি আজমিনা সিদ্দিক রুপন্তী দেশে
থাকলেও শেখ রেহানা এবং সজীব ওয়াজেদ জয় বিদেশে রয়েছেন।
- বিষয় :
- আওয়ামী লীগ
