ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

২৬ ডিসেম্বরের পর মাস্তানি দেখাই দিমু, বললেন আ.লীগের চেয়ারম্যান

২৬ ডিসেম্বরের পর মাস্তানি দেখাই দিমু, বললেন আ.লীগের চেয়ারম্যান
×

ফুলগাজীর আনন্দপুর ইউনিয়নে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৭:৪৭ | আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৭:৪৭

এখানে অনেক মেম্বার প্রার্থী আছেন হয়তো অনেকে আসেনি। আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ভোটের দিন আপনি মেম্বার হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবেন, ওই ওয়ার্ডে আপনি ১২শ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেন আর আমাদের নৌকা ৭শ ভোট পেল কিন্তু মোশারফ হোসেন মিলন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আপনার ভোট এবং নৌকার ভোট সমান না হওয়ার কারণে ৫ বছর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেম্বার হিসেবে আপনি কোনো সুযোগ সুবিধা পাবেন না। তাই আপনাদের স্বার্থ বাদ দিয়ে নৌকার স্বার্থকে আপনাকে প্রধান্য দিতে হবে। ভোটের দিন হয়তো আপনাদের কিছু সমর্থক নিয়ে আপনারা মাস্তানি দেখাবেন। কিন্তু ২৬ ডিসেম্বরের পর আমরা আপনাদের মাস্তানি দেখাই দিমু।

শনিবার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ওলামাবাজারে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেন মিলনের পক্ষে মতবিনিময় সভায় এমন হুঙ্কার দেন ফুলগাজীর আনন্দপুর ইউনিয়নে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার।

হারুন মজুমদার বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে আমি এই এলাকায় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম এবং এবারের নির্বাচনের দিন ২৬ তারিখ পর্যন্ত থাকব। আপনারা জানেন, ফুলগাজী পরশুরাম ছাগলনাইয়ার কোনো নির্বাচনে নৌকা হারেনি। যদি কোনো কারণে চরচান্দিয়া ইউনিয়নে নৌকা হেরে যায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে চলে যাবে না তখন আমাদের দলের যারা খন্দকার মোস্তাকের ভূমিকায় রয়েছে ভোটের পর এটার রেজাল্ট তাদের দিতে হবে।

এদিকে হারুন মজুমদারের হুঙ্কারে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন একাধিক ইউপি সদস্য প্রার্থী। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও দেখিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রার্থী বলেন, আমাদের ডেকে নিয়ে জানিয়ে দিয়েছে আগে তাদের নৌকা প্রতীকের জন্য ভোট চাইতে হবে। আমরা ভোটে দাঁড়ালাম অথচ ভোট চাইতে হবে তাদের প্রার্থীর জন্য এ ধরনের হুমকি কোনোভাবে কাম্য না। তাদের হুমকির কারণে আমরা ও ভোটাররা আতঙ্কের মধ্যে আছি।

হুমকি দেওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান হারুন মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হুঙ্কার দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আমরা আমাদের দলীয় সভায় অনেক কিছু বলতে পারি সেটি কারও মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে না।

নির্বাচনী  মতবিনিময় সভায় কারও বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন জানিয়ে কল কেটে দেন।

চরচান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম মানিকের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তাদের অনেকে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী হাজী আবু সুফিয়ানকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিক্রিয়ায় হাজী আবু সুফিয়ান বলেন, তাদের কটাক্ষ ও হুমকিতে আমরা ভীত নই। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমাদের যদি প্রাণও কেড়ে নেওয়া হয় তারপরও খালি মাঠে কারচুপি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন, জাতীয় পার্টির হাজী আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলনের ফরহাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ দীন মোহাম্মদ, সাবেক চেয়ারম্যান মফিজুল হক পাটোয়ারী ও আবু ইউসুফ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচনে নৌকা ও লাঙল প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×