ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়: নানক

নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়: নানক
×

জাহাঙ্গীর কবির নানক-ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৯:১৫ | আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৯:১৭

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডা. আইভীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়লাভের সূচনা করতে চান। নেতায় নেতায় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে তা যেন প্রতিহিংসায় রূপান্তরিত না হয়। 

শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে শেখ রাসেল পার্কে  ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এসব কথা বলেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে ইঙ্গিত করে নানক বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপির একজন প্রার্থী রয়েছেন, তিনি তার লেভেল উঠিয়ে ফেলেছেন। তার ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। এখানে আমরা কেউ অপরিহার্য নই। বরং অপরিহার্য হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল। 

বিজয় সমাবেশের কথা বলা হলেও এটি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত সমাবেশে রূপ নেয়। এতে তিনজন সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুইজন সদস্যসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথিসহ সব বক্তাই ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চান। নির্বাচন কমিশনের নিষেধ সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে খবর রয়েছে নারায়ণগঞ্জের শতকরা ৬৭ শতাংশ মানুষ আইভীকে ভোট দিতে প্রস্তুত। যিনি আইভীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তিনি বিএনপি করেন, কিন্তু ধানের শীষ নিতে চান না। তিনি নারায়ণগঞ্জের মানুষের চোখে ধুলা দিয়ে জয় পেতে চান। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মা-বোনেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, আজকের এই সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এক ও অভিন্ন হয়ে গেছে। সময় মতো আওয়ামী লীগ এক হয়ে যায়। যার প্রমাণ এই মঞ্চ।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জে অতীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন একেএম শামসুজ্জোহা ও আমার বাবা আলী আহাম্মদ চুনকা। তাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ছিল কিন্তু সংঘাত ছিল না। এখনও প্রতিযোগিতা আছে, থাকুক। কিন্তু দলের জন্য সবাই একত্রে কাজ করবো। আমরা কোনো ভাইয়ের, কোনো বোনের, কোনো চাচার রাজনীতি করবো না। অতীতের মতো এবারও নেত্রী আমাকে প্রার্থী করেছেন, নৌকা দিয়েছেন। আপনারা নৌকার মান সম্মান রক্ষা করবেন।

সমাবেশে বাকি বক্তারাও নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচনে আইভীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে এ সমাবেশে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার। 

মাহফুজা বলেন, বৃহস্পতিবার টেলিফোন করে নির্বাচনের আচরণবিধির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইভীকে সমাবেশে না যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা শোনেননি। আমরা দেখছি এ ব্যাপারে কী করা যায়। 

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন এবং মির্জা আজম এমপি, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদ সদস্য আনিসুর রহমান দিপু প্রমুখ।

এদিকে বিজয় সমাবেশে আইভীর অংশ নেওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

তিনি বলেন, আজকের সমাবেশে আইভীর উপস্থিতি প্রমাণ করে ইসির নখদন্তহীনতা। সমাবেশে আইভীর উপস্থিতি থেকে বোঝা যায় ইসি শুধু সরকারি দলের বাইরের প্রার্থীদের ওপর ক্ষমতা দেখাতে পারে।

আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন

×