মেঘনাবেষ্টিত ৬ চরে নেই আশ্রয়কেন্দ্র
মেঘনা নদীবেষ্টিত তেলিয়ার চর। ধুধু বিলের মাঝে ছোট পাড়া। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগে পাড়ার বাসিন্দাদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো স্থাপনা নেই সমকাল
রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৭:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত ছয়টি দুর্গম চরে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরের মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে থাকেন। একমাত্র তেলিয়ার চরে একটি মাটির কিল্লা ছাড়া আর কোনো স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নেই।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি সিপিপির স্থানীয় টিম লিডার জয়নাল আবেদীন বলেন, বর্তমানে চরগুলোয় দুটি আধাপাকা গুচ্ছগ্রাম, তিনটি টিনশেড স্কুল ভবন এবং একটি মাটির কিল্লা রয়েছে। এসব মিলিয়ে সর্বোচ্চ দেড় হাজার মানুষের আশ্রয় সম্ভব হলেও বাকি সবাইকে চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয়।
চর গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, সংকেত পেলেও গবাদিপশু রেখে কেউ নিরাপদ স্থানে যেতে চায় না। সবকিছু হারানোর ভয়ই সবচেয়ে বড় বাধা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চর গজারিয়া, তেলিয়ার চর, চর আবদুল্যাহ, মৌলভীর চর, সোনার চর ও চর মুজামে নেই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমুদ্র ও মেঘনার মোহনায় অবস্থান হওয়ায় প্রতিটি দুর্যোগেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন চরবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমতল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মেঘনার বুকে গড়ে ওঠা চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র একটি ওয়ার্ড মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বাকি আটটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে অবস্থিত। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের প্রভাব থাকায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি এখানে অনেক বেশি। চরবাসীরা জানান, গবাদিপশু ও জীবিকার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দুর্যোগের সময় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে চান না। ঘরবাড়ি ও সম্পদ রেখে চলে গেলে জীবিকার বড় ক্ষতির আশঙ্কায় তারা ঝুঁকির মধ্যেই থেকে যান।
চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মঞ্জু বলেন, আগে কয়েকটি কিল্লা ছিল। এখন তেলিয়ার চরে একটি নতুন কিল্লা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, তেলিয়ার চর মৌজায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ৯৯ শতাংশ জমির ওপর একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। ভবনটির আয়তন ছয় হাজার বর্গফুট, যা সম্পন্ন হলে প্রায় ১৬০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। তবে নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় চরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ বিলম্বিত হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন নিপা বলেন, দুর্যোগের সময় নৌযান পাঠিয়ে মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে গবাদিপশু ও সম্পদের কারণে অনেকেই যেতে চান না। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়ায় অনেক সময় উদ্ধার কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।
চরবাসীর দাবি, অন্তত তিনটি দোতলা স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং টেকসই বেড়িবাঁধ না হলে প্রতিবছরই দুর্যোগে একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে রামগতির এই বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যেই জীবন কাটাতে বাধ্য হবেন।
- বিষয় :
- মেঘনা
