ঈদে বেড়ানো
তৈদুছড়ার ‘পানির দরজা’
৫০ ফুট উচ্চতার তৈদুছড়া ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর পর্যটন স্পট সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৭:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদের ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার অপরূপ তৈদুছড়া ঝরনা। মেরুং ইউনিয়নের এ ঝরনায় যাওয়ার পথে পাহাড়চূড়ার ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সরল জীবনযাপন পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
তৈদুছড়া ঝরনার রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে ঝরনার মাঝামাঝি অংশে উঠে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে এখানে। এমন অভিজ্ঞতা পাহাড়ের অন্য অনেক ঝরনায় মেলে না।
দীঘিনালা উপজেলায় গভীর অরণ্যে লুকিয়ে থাকা এক নয়নাভিরাম জলপ্রপাত হলো তৈদুছড়া ঝরন। ত্রিপুরা ভাষায় ‘তৈদু’ অর্থ পানির দরজা এবং ‘ছড়া’ অর্থ ঝরনা। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার এই ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অন্যতম রোমাঞ্চকর।
সীমানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা গণেশ চাকমা বলেন, তৈদুছড়া ঝরনায় সারাবছর পানি থাকে। ভ্রমণপ্রিয় লোকজনও সারাবছর এখানে আসেন। ঝরনায় যাওয়ার রাস্তাটা যদি ইট বিছানো হতো, তাহলে ঝরনা পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যাওয়া যেত। এখন পর্যটকদের অনেক কষ্ট করতে হয়।
ঝরনায় যাওয়ার পথে চোখে পড়ে সবুজ বনবীথিতে ঘেরা অসংখ্য পাহাড়ি গ্রাম। সেখানে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবনধারা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি পর্যটকদের ভ্রমণকে করে তোলে বাঙময়। পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে ওঠা এসব গ্রামের সরল জীবনযাপন প্রকৃতির সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
তৈদুছড়া ঝরনায় পৌঁছানোর জন্য রয়েছে তিনটি পৃথক পথ। সহজ উপায়ে সরাসরি যেতে চাইলে দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের নয় মাইল ত্রিপুরাপাড়া হয়ে যানবাহনে সীমানাপাড়ায় পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ হেঁটে পৌঁছে যাওয়া যায় ঝরনায়। পথ চিনতে স্থানীয়দের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
প্রকৃতির রূপ উপভোগ করতে চাইলে উপজেলা সদরের থানা বাজার হয়ে চাপ্পাপাড়ায় যেতে হবে। সেখান থেকে ঘণ্টাখানেক পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছানো যায় ত্রিপুরা অধ্যুষিত বুদ্ধমাপাড়ায়। এরপর পাথরঘেরা পাহাড়ি ছড়া ধরে এগোলে দেখা মিলবে ছোট ছোট জলপ্রপাত ও ঝরনার। স্বচ্ছ জলরাশি আর গোলাকৃতির পাথরে ঘেরা এসব ঝরনা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এরপর দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝিরিপথ ধরে এগোলেই দেখা মেলে কাঙ্ক্ষিত তৈদুছড়া ঝরনার।
যারা পানি পথে হাঁটতে পছন্দ করেন, তারা দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের জামতলী আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন মায়াফাপাড়া হয়ে বোয়ালখালী ছড়া পেরিয়ে বুদ্ধমাপাড়ায় পৌঁছাতে পারেন। এ পথেও প্রকৃতির নানা রূপ উপভোগ করতে করতে পৌঁছে যাওয়া যায় ঝরনায়।
স্থানীয় শহীদুল ইসলাম বলেন, ভ্রমণ শেষে বিশ্রাম কিংবা রাতযাপনের জন্য উপজেলার কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল সংলগ্ন হোটেল ইউনিটি ও একতা আবাসিক হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া জুমঘর ও তৃপ্তি হোটেলসহ বেশ কয়েকটি খাবারের দোকানে পাওয়া যায় সুস্বাদু পাহাড়ি খাবার ও নানা ধরনের বাহারি খাবার।
গাইড সৌমেন ত্রিপুরা বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য দলবদ্ধভাবে যাওয়া এবং স্থানীয় গাইডের সহায়তা নেওয়া উত্তম। পাহাড়ি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।’
কোথায় থাকবেন
খাগড়াছড়ি শহরে পর্যটন মোটেল, হোটেল গাইরিং, অরণ্য বিলাস, মাউন্টেন, শৈল সুবর্ণসহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল আছে। ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে এগুলোর ভাড়া। এ ছাড়া দীঘিনালায় থাকতে চাইলে স্টার, রেস্টহাউস, ডিগনিটি নামে তিনটি মাঝারি মানের হোটেল আছে। এখানকার ভাড়া ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা।
- বিষয় :
- পর্যটন কেন্দ্র
