ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

‘সালাম মামা’ প্রতিদিন নেন ১০০ টাকা

‘সালাম মামা’ প্রতিদিন নেন ১০০ টাকা
×

 আহমেদ কুতুব

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৭:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র আগ্রাবাদ বাদামতল চার রাস্তার মোড়। ব্যস্ততম মোড়ের পতেঙ্গামুখী সড়ক, হালিশহরমুখী সড়ক, আগ্রাবাদ হোটেলমুখী সড়ক ও চৌমুহনীমুখী সড়ক ও ফুটপাত প্রায় পুরোটাই হকারদের দখলে। এর মধ্যে সন্ধ্যা নামতেই হালিশহরমুখী সড়কের ব্যাপারীপাড়া পর্যন্ত ছয় ফুটের ফুটপাত ও মূল সড়কটি চলে যায় সবজি, মাছ এবং ভাসমান খাবারের দোকানের দখলে। সন্ধ্যার পর অফিস ছুটি শেষে ঘরে ফেরা মানুষকে তাই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মাত্র ছয় ফুটের ফুটপাতে হাঁটার জন্য এক ফুট জায়গাও পথচারীদের হাঁটার জন্য রাখা হয়নি। ‘সালাম মামা’  নামে এক ব্যক্তি প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে লাইন খরচ বাবদ ১০০ টাকা আদায় করেন।
গত শুক্রবার সরেজমিন সন্ধ্যায় দেখা যায়, বাদামতল মোড় থেকে হালিশহরগামী সড়কের ফুটপাত ও দখল হকারের দখলে চলে যাওয়ায় ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর মার্কেট, লাকী প্লাজার বিপরীতে দীর্ঘ সময় যানজট লেগে রয়েছে। ফুটপাত দিয়ে পথচারীর হাঁটাচলা পুরোপুরি বন্ধ। তারা সড়কের ওপর দিয়েই চলাচল করছেন। এর মধ্যে মোড় থেকে বিআইসিএস অফিস পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়কের ওপর কাপড়ের ভ্যানের দোকান, সেখান থেকে সাউথল্যান্ড সেন্টার পর্যন্ত খাবার ও সবজির দোকান। টিঅ্যান্ডটি কলোনি মসজিদ হয়ে ব্যাপারীপাড়ার মোড় পর্যন্ত মাংস, পেঁয়াজ, বিভিন্ন ফল ও মাছের দোকান পুরো ফুটপাত দখল করে রয়েছে। ফুটপাত স্থায়ীভাবে মাছ ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। 
সাউথল্যান্ড সেন্টারের সামনে সড়কের ওপর নাছির আলু কাচ্ছি বিরিয়ানি, আজাদ আলু কাচ্ছি বিরিয়ানি, সোহেল আলু কাচ্ছি বিরিয়ানি ও রমজান আলু কাচ্ছি বিরিয়ানির চারটি বিরিয়ানি হাউসের দোকান ঘিরে অর্ধশত মানুষের ভিড় ফুটপাত ও সড়কের ওপর লেগে থাকছে। বিরিয়ানি খাচ্ছিলেন হালিশহরের বাসিন্দা নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘চার বন্ধু মিলে শুক্রবার ছুটির দিকে আগ্রাবাদ ঘুরতে এসেছিলাম। এখান দিয়ে যাওয়ার সময় বিরিয়ানি দেখতে পেয়ে দাঁড়ালাম। প্রতি প্লেট ৩০ টাকা করে নিচ্ছে। গরুর ভট দিয়ে বিরিয়ানি তৈরি করা হয়েছে। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে খাওয়ার কারণে মানুষ ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছিল।’
সাউথল্যান্ড সেন্টারের সামনের চা দোকানি মজনু মিয়া বলেন, ‘আমি এখানে বহু বছর ধরে চা-নাশতা বিক্রি করছি। এখন সালাম মামা লাইন খরচ হিসেবে প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে নিচ্ছেন। আমার মতো ফুটপাত ও সড়কের ওপর দোকান বসানো সবাই প্রতিদিন ১০০ টাকা করে সালাম মামাকে লাইন খরচ দিচ্ছেন। তিনি সবাইকে ম্যানেজ করেন; তাই আমাদের এখানে বসে ব্যবসা করতে কষ্ট হয় না।’ 

টিএন্ডটি কলোনী থেকে বেপাড়ীপাড়ার সীমানা পর্যন্ত ফুটপাতের দখল চরমমাত্রায়। এখানে মাছ, মাংস, সবজি ও মিশ্র বাজার নিয়ে বসা দোকানীরা ছয় ফুটের ফুটপাতের এক ফুট ফুটপাতও সাধারণ পথচারির জন্য দখলমুক্ত রাখেননি। তাদের পুরো দোকানটাই টিএন্ডটি কলোনীর দেওয়াল থেকে পুরো ফুটপাতের উপর। মাছ দোকানি আবসার আলী বলেন, এখানে ৮-১০ বছর ধরে মাছ বিক্রি করছি। কোন সময় কেউ ঝামেলা করেনি। এখান দিয়ে ফুটপাত মানুষ ব্যবহার করে না। তাই ফুটপাতে আমরা দোকান বসিয়েছি। আমরা এখানে দোকান বসানোয় এলাকার মানুষ সহজেই মাছ, মাংস ও সবজি কিনতে পারছে। না হলে প্রতিদিন পকেটের টাকা খরচ করে দেওয়ানহাট কিংবা চৌমুহনী সিডিএ বাজারে গিয়ে মাছ-মাংস বাজার করতে হতো। 
সবজি বিক্রিতা আবদুল ওয়াদুদ বলেন, এখানের ফুটপাত ও সড়কের উপর আমরা সন্ধ্যার পর তিন-চার ঘন্টা ব্যবসা করি। সারাদিন সড়ক ও ফুটপাত ফাঁকা থাকে। সন্ধ্যায় অফিস ছুটির পর মানুষ বাসায় ফেরার পথে সবজিসহ প্রয়োজনীয় বাজার করে সহজেই বাড়ি যান। এতে চাকরিজীবীদের উপকার হয়। তাদের বাসা ফিরে আবার বাজারে যেতে হয় না। সন্ধ্যায় কয়েক ঘন্টা ফুটপাত ও সড়কে বসায় পথচারিদের একটু কষ্ট হচ্ছে এটা ঠিক। 
খোঁজ নিজে জানা গেছে, আগ্রাবাদ বাদামতল থেকে বেপাড়ীপাড়ার সীমানা পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়কের উপর ১৫০ থেকে ১৮০টি ভাসমান দোকান প্রতিদিন বসে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে ফুটপাতের উপর অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন। রাজনৈতিক দলের একশ্রেনীর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি ও কষ্ট দিয়ে তারা ফুটপাতে অবৈধ বাণিজ্য করছে।

আরও পড়ুন

×