ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সীতাকুণ্ডের ৪২ কিলোমিটারে ১৭ হাটবাজার, তীব্র যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

সীতাকুণ্ডের ৪২ কিলোমিটারে  ১৭ হাটবাজার, তীব্র যানজট
×

 এম সেকান্দর হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৭:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশের ৪২ কিলোমিটারে গড়ে উঠেছে ১৭টি বাজার ও হাট। মহাসড়ক ঘেঁষে এসব হাটবাজারের কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যানবাহনের যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিন দেখা যায়, সীতাকুণ্ডের বড়দারোগারহাট, ছোটদারোগারহাট, ফকিরহাট, শুকলালহাট, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কৌট্টাবাজার, কুমিরা, বগুলাবাজার, মদনহাট, মাদামবিবিরহাট, ভাটিয়ারী, বানুরবাজার, জলিল গেট বাজার, ফৌজদারহাট, পাক্কা রাস্তার মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কের পাশে বাজার ও হাট বসে। উপজেলা প্রশাসন এসব বাজার ইজারা দিয়ে রাজস্ব আয় করলেও বাজারকেন্দ্রিক যানজট ও জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, বাজারের দিনগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, পণ্যবাহী ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং সড়কের পাশ দখল করে দোকান বসানোর কারণে যানবাহনের গতি কমে যায়। বিশেষ করে ঈদ, উৎসব ও সাপ্তাহিক হাটের দিনে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হয় যাত্রীদের।

ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম রতন বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী মহাসড়কের শোল্ডার দখল করে দোকান বসান। এতে জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প চলাচলের সুযোগ থাকে না। অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবার যানবাহনও বাধার মুখে পড়ে।’ ৮ নম্বর লাইনের মিনি বাসচালক আবদুর রহিম বলেন, ‘নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচলের জন্য বাজারগুলোকে মহাসড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফুট ওভারব্রিজ, সার্ভিস লেন ও নিয়ন্ত্রিত পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
বারআউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ বলেন, ‘মহাসড়কসংলগ্ন বাজার ও পশুর হাট যানজট এবং দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এ কারণে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর মনিটরিং প্রয়োজন।’

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার অধিকাংশ বাজার মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। বাজারগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হয় এবং ইজারাদারদের জনভোগান্তি সৃষ্টি না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সড়কের ওপর না বসার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।’
স্থানীয়দের মতে, অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই মহাসড়কসংলগ্ন বাজারগুলোকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে যানজট ও দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাড়বকুণ্ড এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে নিরাপদ রাখতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং কঠোর নজরদারি জরুরি হয়ে পড়েছে।’ শুকলালহাট বাজারের ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে বাজার থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা সহজে সবজি সংগ্রহ করতে পারেন। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হন।’

আরও পড়ুন

×