আবার কানায় কানায় পূর্ণ সাগরিকা
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সাগরিকা স্টেডিয়ামে দর্শকদের একাংশ মো. রাশেদ
শৈবাল আচার্য্য
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৭:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ চট্টগ্রামের সাগরিকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বন্ধের দিন হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরীর পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন ক্রিকেটপাগল দর্শকরা। এ তালিকা থেকে বাদ যায়নি ছোট শিশু থেকে বয়স্করাও। অনেকেই আবার সপরিবারে এসেছেন বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি দেখতে। ১৯ জুন দুপুর ২টা থেকে খেলা শুরু হলেও সকাল থেকেই মাঠের চারপাশে ভিড় করতে থাকেন দর্শকরা। এ সময় দর্শকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন।
সাড়ে ১৮ হাজার দর্শকের ধারণক্ষমতার সাগরিকা স্টেডিয়ামের প্রতিটি প্রান্তে দর্শকদের উপস্থিতি আরও কিছুটা বেশি দেখা যায়। অনেকে আবার টিকিট না পেয়ে স্টেডিয়ামের আশপাশের ভবনের ছাদ, গাছ, ফ্লাইওভারের ওপরে উঠেও প্রিয় দেশের খেলা উপভোগ করতে দেখা যায়। দর্শকদের ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে স্টেডিয়ামের প্রতিটি প্রান্ত।
চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন থেকে খেলা দেখতে এসেছেন চার বন্ধু আবিদ, ইমন, কাউসার ও সায়েম। আবিদ বলেন, ‘নিজের শহরে প্রিয় বাংলাদেশের খেলা দেখতে পারার সুযোগ হাতছাড়া করিনি। প্রথম ম্যাচ দেখার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও টিকিট না পাওয়ায় পারিনি। অনেক কষ্টে চার বন্ধু টিকিট সংগ্রহ করেছি। মাঠে ঢুকে সচক্ষে তানজিদ, সৌম্য, সাইফদের খেলা দেখতে পেরে স্টেডিয়ামের বাইরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কষ্ট নিমিষেই চলে গেছে।’
নাতিকে নিয়ে খেলা দেখতে আসা জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘ক্রিকেট খেলা আমার খুব প্রিয়। তাই শরীর খারাপ থাকার পরও নাতিকে নিয়ে খেলা দেখতে ছুটে। টিভির পর্দার চেয়ে মাঠে বসে খেলা দেখার মজাই আলাদা।’ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মিজান আহম্মদ বলেন, ‘প্রিয় দলের খেলা, তাই তিন সন্তানকে নিয়ে স্ত্রীসহ মাঠে বসে সরাসরি দেখতে এসেছি। যখন বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় ছক্কা মারেন, চার মারেন তখন সবাই তা অন্যরকমভাবে উদযাপন করেন। অস্ট্রেলিয়া টিমের কোনো খেলোয়াড়কে যখন আউট করা হয় তখনকার অনুভূতিটাও অন্যরকম; যা টিভির পর্দায় সেভাবে উপলব্ধি করা যায় না। মাঠে অনেক দর্শকের উপস্থিতিতে খেলা দেখতে পেরে আমরা সবাই আনন্দিত।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘২য় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দর্শকে পরিপূর্ণ হয়েছে পুরো সাগরিকা স্টেডিয়াম।
একটা টিকেট অবিকৃত নেই। মাঠে আশানুরূপ দর্শকের উপস্থিতি হওয়ায় আমরাও আনন্দিত।' গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। রেনশর ৫২ বলে ৮৯ রানের অপরাজিত দুর্দান্ত ইনিংসে বাংলাদেশকে ১৯৬ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। মোস্তাফিজুর রহমানের শেষ ওভারে ১৮ রান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদ ছাড়া সবাই দিয়েছেন বেশি রান। ১৯৬ রানের তাড়া করতে নেমে তানজিদ ও সাইফের ব্যাটে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। তবে শেষ ওভারের নাটকিয়তায় ৭ রানে হার মানতে হয় বাংলাদেশকে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। ক্রিজে থাকা হৃদয় শেষ বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ৩৫ রানে ক্যাচ আউট হন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। এতে একম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া। তীরে এসেও তরী ডুবে যাওয়ায় একবুক হতাশা নিয়ে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন দর্শকরা। এজন্য খেলোয়াড় নির্বাচনে ভুল হওয়ার কথাও বলেন তারা। অভিযোগ করে কয়েকজন দর্শক বলেন, ‘একদিকে বাংলাদেশ অতিরিক্ত রান দিয়ে ফেলেছে। তারমধ্যে করেছে ক্যাচমিস। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যেসব খেলোয়াড়কে দলে রাখা হয়েছে তা যথাযথ হয়নি। তাছাড়া পঞ্চম উইকেটে সাকলাইনের জায়গায় রিশাদ হোসেনকে নামানোর প্রয়োজন ছিল। তাহলে শেষের দুই-তিন ওভারে বেশ কয়েকটি বল শূন্য রানে নষ্ট হতো না। এসব বলে কয়েকটি রান নিলেও বাংলাদেশ জয়ী হতো। কেননা শেষ বলে দরকার ছিল ৮ রান। আগের ওভারগুলোতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বল নষ্ট করায় সম্ভাবনা জাগিয়েও হেরেছে বাংলাদেশ।’
সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে টসে হেরে যায় অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। শরিফুল ইসলামকে বিশ্রাম দিয়ে একাদশে ফেরানো হয় নাহিদ রানাকে। টিম কম্বিনেশনের কারনে বাদ পড়েছেন শেখ মেহেদী। তাকে বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে নাসুম আহমেদকে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন জাভিয়ের বার্টলেট। তার বদলে অ্যারন হার্ডিকে একাদশে নিয়েছে অজিরা।
- বিষয় :
- ফুটবল
