ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

‘ভুল’ চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা ও গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ

‘ভুল’ চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা ও গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ
×

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকায় ‘সৌহার্দ হসপিটাল অ্যান্ড মেডি কমপ্লেক্স’ নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে ‘ভুল’ চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা ও গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনরা।

হাসপাতালটির চিকিৎসক জুবায়ের হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার কুমিল্লা প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ) কুমিল্লা শাখা। একই দিন ‘ভুল’ চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ তুলে নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে পাল্টা মানববন্ধন করে জড়িত চিকিৎসকের বিচার দাবি করেন রোগীর স্বজনরা।
চিকিৎসকদের মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, বিপিএমপিএ কুমিল্লা শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ডা. রাসেল আহমেদ চৌধুরী, ময়নামতি মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান রইস আব্দুর রব, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. মিনহাজ তারেক, ডা. শফিকুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ বিভিন্ন সময় তাদের ওপর হামলা ও অসদাচরণের ঘটনা ঘটছে; যা উদ্বেগজনক। তারা ডা. জুবায়েরের ওপর অমানবিক হামলার তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অপরদিকে ‘ভুল’ চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর গর্ভের সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় গাইনি চিকিৎসক শান্তনা রানী পালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। দুই সন্তান কোলে নিয়ে মানববন্ধনে আসেন প্রসূতির স্বামী বিল্লাল হোসেন। এ সময় তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী ঘটনার দিন বিকেলেও হেঁটে ওই হাসপাতালের চার তলায় উঠেছিলেন। তারা শুধু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরই সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী ও অনাগত সন্তান দুজনকেই হারানোর কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এখন আমার দুই সন্তান কাকে মা বলে ডাকবে? চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় আমার স্ত্রী ও অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
তবে ডা. শান্তনা রানী পালের ভাষ্য, প্রতিদিন রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু শারীরিক সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে রোগীর মৃত্যু হলে বিষয়টি না জেনেই ভুল চিকিৎসার অভিযোগ আনা হয়। ওই প্রসূতির চিকিৎসায় তাদের কোনো ভুল ছিল না- যা তদন্ত করলে বের হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ সমকালকে বলেন, রোগীর স্বজন, চিকিৎসক কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। রোববার (আজ) অভিযোগ দেওয়ার কথা। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি করা হবে।
এর আগে ১৫ জুন ডা. শান্তনা রানী পালের অধীনে কুমিল্লা নগরীর ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর এলাকার রীমা আক্তার নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। সেই দিন ওই হাসপাতালে ডিউটি ডাক্তার ছিলেন জুবায়ের হোসেন। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, একটি ইনজেকশন প্রয়োগের কিছুক্ষণ পর মারা যান ওই রোগী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করে এবং চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ডা. জুবায়ের গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন

×