ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

খুঁটিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে খাসজমি দখলের ফন্দি

খুঁটিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে খাসজমি দখলের ফন্দি
×

জয়পুরহাটের কেশবপুর গ্রামে সাইনবোর্ড টানানো পরিত্যক্ত দোকান ঘর সমকাল

 জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কেশবপুর গ্রামে সরকারি খাস জমি দখল রক্ষা এবং ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরের সামনে বাঁশের খুঁটিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাইনবোর্ড। চকচকে এই সাইনবোর্ড ঝুললেও বাস্তবে সেখানে নেই কোনো শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমের ন্যূনতম কোনো অস্তিত্ব। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতিও নেই। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ এমন সাইনবোর্ড দেখে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাঠদানের অনুমোদন ও অবকাঠামো ছাড়াই শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে এই তথাকথিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে একটি গোষ্ঠী। এর মূল উদ্দেশ্য হলো লিজ বাতিল হওয়া সরকারি খাস জমিটি নিজেদের দখলে রাখা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেশবপুর গ্রামের সড়কের পাশে একটি টিনশেড ঘরের সামনে ঝুলছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড, যেখানে প্রতিষ্ঠা সাল উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৪।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত দুই মাস আগেও এই নামে এলাকায় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ছিল না। সাইনবোর্ডের পেছনের ঘরটি মূলত আগে একটি ওষুধের দোকান ও মুদি দোকান ছিল, যা বর্তমানে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত।

জানা গেছে, কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা পল্লি চিকিৎসক আব্দুল জলিল অনেক আগে নিজেকে ভূমিহীন পরিচয় দিয়ে সরকারি খাস জমি লিজ নেন। তবে তিনি বাস্তবে ভূমিহীন ছিলেন না। সম্প্রতি জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি খাস জমি হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তাঁর লিজ বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়। লিজ বাঁচাতে এবং জমিটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি ধলতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আব্দুল খালেক তাঁকে ওই খাস জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বুদ্ধি দেন।

একটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার আইনি কোনো শর্ত পূরণ না করেই গত শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ পরিত্যক্ত ওই দোকানের সামনে কলেজের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, মূল উদ্যোক্তা আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
পল্লি চিকিৎসক আব্দুল জলিল বলেন, তাঁর নামে লিজ নেওয়া জমিটি কলেজের জন্য দেওয়ার চিন্তা করেছি। ধলতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক লেবুর সঙ্গে পরামর্শ করেই এই কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি কলেজের অধ্যক্ষের পদে আছেন এবং সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এদিকে আব্দুল খালেক লেবু বলছেন, অধ্যক্ষ নয়, তিনিই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। লেবু বলেন, আব্দুল জলিল কলেজের নামে কিছু জমি দেবেন এবং পরে আরও কিছু জমি কেনা হবে। কলেজের জন্য মোট ৬০ শতক জমির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনও কলেজের নামে কোনো জমি দান বা ক্রয় সম্পন্ন হয়নি।

এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত দুই বছর বা তাঁর আগের রেকর্ড অনুযায়ী এই উপজেলায় এই নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অনুমোদন বা তথ্য তাদের দপ্তরে নেই। তবে কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে ওই সাইনবোর্ডের একটি ছবি তারাও দেখেছেন।

ইউএনও কাশপিয়া তাসরিন জানান, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে তা রক্তের সম্পর্ক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল করে দেওয়া বা হস্তান্তর করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, আব্দুল খালেক লেবুর বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। প্রয়াত নেত্রীর নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন

×