ইউএনওর জাল স্বাক্ষরকৃত ভুয়া ডিসিআর জব্দ
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
নাটোরের সিংড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) জাল সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে সরকারি জলমহালের ভুয়া ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ (ডিসিআর) তৈরির এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি প্রকাশ পেয়েছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের দুটি সরকারি পুকুর বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এই ভুয়া ডিসিআর দুটি জব্দ করেছে উপজেলা ভূমি অফিস। তবে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের আটক করা হলেও একটি প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে ভূমি অফিস থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল্লাহ আল রিফাত এবং ক্রেডিট চেকিং-কাম-সায়রাত সহকারী আবুল বাসারের সিল ও স্বাক্ষর সম্বলিত দুটি ডিসিআর যাচাই করতে বুধবার উপজেলা ভূমি অফিসে আসেন চৌগ্রামের আলী হোসেনের ছেলে বিদ্যুৎ হোসেন, নিমাকদমা গ্রামের মৎস্যজীবী দল নেতা বুলবুল হোসেন এবং একই গ্রামের সিদ্দিক হোসেন।
ডিসিআর দুটিতে সিংড়া উপজেলার নিমাকদমা মৌজার ১২০২ দাগের ৪.০৮ একর এবং একই মৌজার ৮৪০ ও ৮৪১ দাগের ৪.৯৯ একর সরকারি পুকুরের বিবরণ উল্লেখ ছিল। পুকুর দুটির সরকারি ইজারা মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ডিসিআর দুটির সিল ও স্বাক্ষর দেখে ভূমি অফিসের সায়রাত সহকারী আবুল বাসারের সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নথি যাচাই করে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি ডিসিআর দুটি জব্দ করে ইউএনওকে অবগত করলে ইউএনও ওই তিনজনকে অফিসে বসিয়ে রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।
এ বিষয়ে ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং-কাম-সায়রাত সহকারী আবুল বাশার বলেন, চৌগ্রামের বিদ্যুৎ হোসেন ডিসিআর দুটি যাচাই করতে নিয়ে আসেন। জালিয়াতি নিশ্চিত হওয়ার পর ইউএনও স্যারের নির্দেশে তাদের বসিয়ে রাখা হলে বিদ্যুতের সঙ্গে থাকা অন্য দুজন টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে বিদ্যুৎ হোসেনকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সুপারিশে শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আবুল বাশার বাদী হয়ে বিদ্যুৎ হোসেনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও দুজনকে আসামি করে সিংড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেছেন।
অভিযুক্ত মৎস্য ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ হোসেন জালিয়াতির দায় অস্বীকার করে বলেন, নিমাকদমা গ্রামে তাঁর ইজারা নেওয়া পুকুরে মাছ চাষ করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মৎস্যজীবী দল নেতা বুলবুল হোসেন মুঠোফোনে জানান, এই বিষয়ের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। এর পরপরই তিনি ফোন কেটে দেন। অপর অভিযুক্ত সিদ্দিক হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- স্বাক্ষর জালিয়াতি
