স্কুল ফিডিং কর্মসূচি
ক্ষুধামুক্ত ক্লাসরুমে মনোযোগী শিক্ষার্থী
শরীয়তপুরে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার নেওয়ার পর শিশু শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি সদর উপজেলার ৪৪ নম্বর পালং তুলাশার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমকাল
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
শরীয়তপুর সদরসহ জেলার তিনটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষা, পুষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তার সমন্বয়ে কর্মসূচিটি এখন একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা পাচ্ছে।
জেলায় ৩৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ হাজার ৮২৩ জন শিক্ষার্থীর হাতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ও অভিভাবকদের মতে, ক্ষুধামুক্ত পরিবেশে শিশুরা পাঠগ্রহণে বেশি মনোযোগী হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমাতেও এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পালং তুলাশার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওহীদা মানহা বলে, ‘আমরা রুটি, কলা, ডিম ও দুধ পাই। খাবার পেয়ে খুব ভালো লাগে। আমরা অনেক খুশি।’
৭২ নম্বর পুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলবি আজাদ জানায়, স্কুলে দেওয়া খাবার খুবই ভালো। নিয়মিত খাবার পাওয়ায় স্কুলে আসতে আরও ভালো লাগে। বাইরে অস্বাস্থ্যকর খাবারও খেতে হয় না।
অভিভাবক বাশার খান বলেন, পুষ্টিকর খাবার দেওয়ায় শিশুদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। এতে অভিভাবকদেরও স্বস্তি মিলছে। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনতাহার মা মালিহা বলেন, আগে মেয়েকে সকালে খাওয়ানো নিয়ে চিন্তা থাকত। এখন স্কুলে টিফিন পাওয়ায় অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকি।
চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং তারা ক্লাসে বেশি মনোযোগী হচ্ছে।
পুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিন আক্তার বলেন, নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুরা এই কর্মসূচি থেকে সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। তাদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহও বেড়েছে।
খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সমতা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তানভীর আহমেদ পাপ্পু বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দিতে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল মনসুর বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রাথমিক শিক্ষায় সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সরকার, বিদ্যালয়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব হবে।
- বিষয় :
- স্কুলখোলা
