৮৩০ কোটি টাকার নদী রক্ষা প্রকল্পে ধস
গাইবান্ধার সাঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে তীব্র ভাঙন। গোবিন্দপুর এলাকা থেকে শুক্রবার তোলা সমকাল
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
উজান থেকে নেমে আসা যমুনা নদীর সামান্য পানির চাপেই গাইবান্ধার সাঘাটায় ৮৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের নদী রক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লক নদীতে বিলীন হতে শুরু করেছে। বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই প্রকল্পের এই নাজুক দশা নির্মাণকাজের গুণগত মান ও তদারকি নিয়ে স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাস্তবায়নাধীন যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন থেকে ফুলছড়ির কাতলামাড়ি এবং সাঘাটার গোবিন্দপুর ও হলদিয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে এই ধস দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রকল্পের মোট ২৮টি প্যাকেজের মধ্যে ১০ নম্বর প্যাকেজের সিসি ব্লকগুলো পানির টানে সরে গিয়ে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছু স্থানে বড় ধরনের ফাটল ও
ধসের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পানির চাপ আরও বাড়লে প্রকল্পের বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে
যাবে; ফলে নতুন করে ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়বে বিস্তীর্ণ এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকমতো তদারকি করলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই এভাবে ব্লক নদীতে ভেসে যেত না। স্কুল, মসজিদ ও বসতভিটা এখন ভাঙনের মুখে। চরম আতঙ্কে দিন কাটছে মানুষের।
আরেক বাসিন্দা সোহাগ মিয়া জানান, উজান থেকে ঢল নামার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকটি স্থানে ভাঙন তীব্র হয়েছে। এখনই স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ডান তীরের ভয়াবহ ভাঙন থেকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষায় ২৮টি প্যাকেজে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। পরে নদীর ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে তিনটি মূল প্যাকেজে বিভক্ত করে কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বর মাসে এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই ব্লক ধসে পড়ার ঘটনা প্রকল্পটির স্থায়ী কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করেছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান। বর্ষা মৌসুমে নদীর মূল ব্যাংক লাইন যাতে ডিজাইনের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে কিছু সিসি ব্লক প্লেসিং করেছিল। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে মূল ডিজাইন অনুযায়ী পুনর্নির্মাণ করবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। এ ছাড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সিসি ব্লক মজুত রয়েছে।
- বিষয় :
- নদীরক্ষা
