বৃষ্টিতে সংযোগ সড়ক ভেঙে সেতুর দুই পাশে গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কাকিয়াখালী সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন সমকাল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ০৮:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের কাকিয়াখালী সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে সমস্যাটি থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বৃষ্টি হলে চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। ভাঙা সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বৃষ্টিতে গর্ত আরও বড় হয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই দ্রুত সড়কটি সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ পথ।
জানা গেছে, কাকিয়াখালী সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে গর্ত হওয়ায় বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন মজিদপুর ইউনিয়নের কাকিয়াখালী, মজিদপুর, বালুয়াকান্দি, দুধঘাটা, সাহাপুর, চরভাটেরা, ভাটেরা, নন্দীরচর, দড়িগাঁও, মধ্যসাতানী, মোহনপুর শাহবুদ্দি, দাউদকান্দির ভজরা, বাহেরচর গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে লোকজন ও যানবাহন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাকিয়াখালী সেতুর সংযোগ সড়কের উভয়প্রান্তে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পূর্বপাশের সড়কের বড় অংশ ধসে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয়রা জানান, ভারী বৃষ্টিপাতে সড়কের একাংশ ভেঙে পড়ায় একপাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপরপাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন ও পথচারী। সামনে
বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাদের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।
অটোরিকশা চালক শাহআলম বলেন, সড়ক এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে অনেক যাত্রী উঠতে চান না। গাড়ি উল্টে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।
শিশু শিক্ষার্থীর অভিভাবক সিপন আহম্মেদ জানান, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় শঙ্কা রয়েছে। সে সময় শিশুদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসী জানান, বিপজ্জনক অবস্থার কারণে অনেকেই এই সড়ক ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে যাত্রী ও যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে জগতপুর ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হুমায়ন কবির বলেন, সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় তারা বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে পণ্য আনা-নেওয়া করছেন। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, সময়ও বেশি লাগছে। অতিরিক্ত খরচের প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে।
মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবু হানিফ জানান, মজিদপুর ইউনিয়নের ১৪ গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। বিশেষ করে সড়কটি ব্যবহার করে এই এলাকার মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন। কিন্তু কাকিয়াখালী সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে গর্ত হওয়ায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় স্থানীয় সড়কার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী খোয়াজুর রহমানের
সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, কাকিয়াখালী সেতুর সংযোগ সড়কটি মেরামত করা হলেও বৃষ্টির কারণে বারবার ভেঙে যাচ্ছে। আবারও দ্রুত সময়ের
মধ্যে সংস্কার করা হবে।
- বিষয় :
- বৃষ্টি
