ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া

চেয়ারম্যানশূন্য সুন্দরপুরে ‘নির্বাচনী নড়াচড়া’

সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগ বাড়ছে

চেয়ারম্যানশূন্য সুন্দরপুরে ‘নির্বাচনী নড়াচড়া’
×

ছবি: সমকাল

 ইকবাল হোসেন মনজু, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:১৩ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিন নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জন্মনিবন্ধন, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, উন্নয়ন কার্যক্রম ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন বাসিন্দারা। এর মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক আভাসে ইউনিয়নজুড়ে শুরু হয়েছে ‘নির্বাচনী নড়াচড়া’। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠে নেমে জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন আর স্থানীয়দের প্রত্যাশা– দ্রুত নির্বাচন হলে ফিরবে জনপ্রতিনিধিনির্ভর সেবা।

ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে উপজেলা সদরের লাগোয়া সুন্দরপুর ইউনিয়ন রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে– এমন সম্ভাবনার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন। যদিও এখনও কোনো দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি।

সরেজমিন দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি তৎপরতা বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য শহিদুল আজম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুজাউদ্দিন এবং বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হোসেন নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুজাউদ্দিন বলেন, ‘দলের জন্য দীর্ঘ সময় রাজপথে ছিলাম। মামলা, হামলা ও কারাবরণ করেছি। দল যদি মূল্যায়ন করে, তাহলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’ সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আজম বলেন, ‘সুন্দরপুরের মানুষ আবারও আমাকে নির্বাচনে দেখতে চাচ্ছেন। জনগণের সেই আহ্বানকে সম্মান জানিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তিনি আরও জানান, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবনের জন্য প্রায় ৫৫ লাখ টাকার বরাদ্দ এনে নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। এছাড়া আলী আকবর সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নও করা হয়েছিল। নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং নাগরিক সেবা সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্য কোনো প্রার্থী এখনও মাঠে না থাকলেও ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিরও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। ফলে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে এখনও কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই। তবে তপশিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

স্থানীয় ভোটার মোকাতার হোসেন রুবেল বলেন, ‘ইউনিয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকায় অনেক ছোট ছোট কাজেও মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন হলে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধি পাওয়া যাবে।’ ভোটার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সচল রাখতে দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকলে উন্নয়নকাজও গতি পাবে।’ এনাএয়ত হোসেন ও আবু তাহেরেরও একই দাবি, দীর্ঘদিন প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকার পরিবর্তে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ইউনিয়নের সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত।

স্থানীয়দের মতে, নির্বাচন কমিশন দ্রুত তফসিল ঘোষণা করলে শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাই নয়, দীর্ঘদিনের স্থবির স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাও সচল হবে। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবা সহজ হওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমও নতুন গতি পাবে।
 

আরও পড়ুন

×