ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতাদের অংশগ্রহণ হঠাৎ বেড়েছে

রামু উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতাদের  অংশগ্রহণ হঠাৎ বেড়েছে
×

সুন্দরপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুল আজমের গণসংযোগ সমকাল

 রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আদৌ হবে কিনা– এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কক্সবাজারের রামুতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ইতোমধ্যে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। সামাজিক, ধর্মীয় ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন আয়োজনে নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন তারা। বর্তমানে অন্তত আটজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তারা এলাকাবাসীর সামনে নিজের পরিচয় বাড়াতে সচেষ্ট।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় ভোটারদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ধরে নিচ্ছেন, নির্বাচন হলে দলীয় মনোনয়ন কিংবা জনগণের সমর্থন পেতে আগেভাগেই মাঠে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রামু উপজেলা সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘বিএনপি সরকারের আগের মেয়াদে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চালু করে। বর্তমানে আওয়ামী 

লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের সিদ্ধান্তও নির্বাচন হবে কি না—সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। তবে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও তৃণমূল পর্যায়ে সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিলে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’
রামুতে উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী। তিনি আগের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা প্রয়াত আহমেদুল হক চৌধুরী ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় মারা যান। পরে উপনির্বাচনে মাহিন চৌধুরী অংশ নিলেও পরাজিত হন।
মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা পরিষদকে কার্যকর জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে আমি কাজ করতে চাই। নির্বাচন হলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অংশ নেব। আমার প্রয়াত বাবার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ এবং জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতেই আমি নির্বাচনে আগ্রহী।’
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে আরও আলোচনায় রয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমও। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত হলে অবশ্যই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব।’
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে আর যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াছিন, জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার জেলা শুরা সদস্য ও রামু উপজেলা সেক্রেটারি আবু নাঈম মুহাম্মদ হারুন, জেলা যুবদলের সহসভাপতি জাবেদ ইকবাল, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল বশর বাবু, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদুল হক জনি এবং জেলা তাঁতীদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনছুরুল হক।
জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘১৯৯৯ সাল থেকে আমি তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও ক্রীড়া অঙ্গনে কাজ করছি। জনগণের আস্থার জায়গা থেকেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
আবুল বশর বাবু বলেন, ‘জনগণের সেবা করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। দলের কঠিন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে আমার উপর। তবে নির্বাচন ও প্রার্থিতার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’
ডা. মোহাম্মদুল হক জনি বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি থেকেই আমার রাজনৈতিক পথচলা। একজন যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব হিসেবে আমি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। আগামী নির্বাচনে সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবে জনগণ।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবু নাঈম মুহাম্মদ হারুন জানান, জেলা সংগঠন থেকে তাঁকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে জনগণের সেবার প্রার্থী হবেন। ২০১৪ সাল থেকে এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন এবং রাজনৈতিক নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফরিদা ইয়াছিন ও মনছুরুল হক জানান, নির্বাচন হলে তাঁরা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তারা।

আরও পড়ুন

×