কানাডায় মসজিদ খোলার আলোচনা, ঈদের জামাতের জল্পনা-কল্পনা
কানাডা ক্যালগেরির আকরাম জুম্মা মসজিদ
কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২০ | ২৩:২৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই চলছে লকডাউন। বেশিরভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, যান চলাচল, ঘর থেকে বের হওয়ায় রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। কানাডাও এর ব্যতিক্রম নয়।
তবে মহামারি রোধে এমন পদক্ষেপকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই আবার প্রতিবাদ করছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে নিয়োজিত রাষ্ট্র প্রতিনিধিরা। একদিকে অর্থনীতি আর অন্যদিকে স্বাস্থ্য সচেতনতা। কানাডা সরকার কর্তৃক সচেতনতামূলক নানা ধরনের কর্মসূচি ও পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও কানাডায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
কানাডার বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদরা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিনিধিরা একের পর এক আলাপ-আলোচনা করছেন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। ইতোমধ্যে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পরিস্থিতি উন্নত হলে সেখানে লকটাউন তুলে নেওয়া হয়েছে।এখনও কুইবেক এবং অন্টারিওতে লকডাউন থাকলেও তা যেকোনো সময় তুলে নেওয়া হতে পারে। কারণ অর্থনীতি চালু করে ঘুরে দাঁড়াতে হবে বলে প্রশাসন মনে করছে। আলবার্টা প্রভিন্স এ লকডাউন ধীরে ধীরে শিথিল করার পরিকল্পনা চলছে। তবে একসঙ্গে সবকিছু খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই।
এদিকে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে উচ্চস্বরে মাগরিবের আজান প্রচারের অনুমতি দিয়েছে টরোন্টো,অটোয়া, মিসিসাউগা এবং ক্যালগেরি সিটি কাউন্সিল। করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিটি কাউন্সিলগুলো পৃথক পৃথকভাবে এই অনুমোদন দেয়। সংক্ষিপ্ত আকারে আজান প্রচার করার অনুমতি দিলেও মসজিদে সমবেত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ শে মে পর্যন্ত এই সুবিধা বহাল থাকবে বলে জানা গেছে।
এদিকে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঈদের জামাতে নামাজ পড়া নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। ক্যালগেরির বিএম আইসিসি এর প্রেসিডেন্ট কাজী রহমান সুজা জানান, ঈদের জামাত নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে পরিকল্পনা চলছে। যদি আমরা ঈদের জামাত আদায় করি তাহলে আলবার্টার নিয়মনীতি মেনেই হয়ত ১৫ জনের জামাতে নামাজ পড়া যাবে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদগুলো খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে অন্টারিওর প্রভিন্সিয়াল সরকার। এ ব্যাপারে বিভিন্ন মসজিদের পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। স্কারবোরো সেন্টারে এমপি সালমা জাহিদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল এক ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।
স্কারবোরোর সব এমপি, এমপিপি এবং লিবারেল পার্টির নেতাদের নিয়ে এই ভার্চুয়াল ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার এমপি, আহমেদ হোসেন এমপিও এতে অংশ নেন। লিবারেল পার্টির তরুণ নেতা সারোয়ার চৌধুরী এই ইফতারের আয়োজন করেন।
তিনি জানান, খোলা মাঠে বা মসজিদে আসন্ন ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হবে বলে তিনি মনে করেন না।
ইফতার পার্টিতে একজন অংশগ্রহণকারী আসন্ন ঈদে মুসলমানদের মাঠে এবং মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ দেওয়া যায় কি না জানতে চাইলে সালমা জাহিদ এমপি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রভিন্সিয়াল সরকারের ঘোষিত জরুরি অবস্থা এখনও বহাল আছে। জরুরি অবস্থায়ও কোথাও ৫ জনের বেশি সমাগম করা যায় না। কাজেই এই অবস্থায় ঈদের জামাতের অনুমতি দেওয়া হবে বলে তিনি মনে করেন না।
সালমা জাহিদ জানান, সীমিত পরিসরে দোকানপাট খুলে দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদগুলো খুলে দেওয়ার চিন্তাও করা হচ্ছে। তবে কি উপায়ে, কি বিধিব্যবস্থা অনুসরণ করে তা করা হবে তা নিয়ে শিগগিরই মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রভিন্সিয়াল সরকার আলোচনা করবে।