ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
×

ছবি: সমকাল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪:০৬

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে সংঘটিত এক কিশোরী ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায় অনুযায়ী, প্রধান তিন আসামি মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই তিন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার রেয়াত সুবিধা কিংবা জেল কোড (কারাবিধি) অনুযায়ী কোনো ধরনের রেমিশন (সাজা মওকুফ) সুবিধা পাবেন না।

এ ছাড়া অপর তিন আসামি মো. আনিসুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত রায়ে আরও নির্দেশ দেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে। প্রয়োজনে দণ্ডিত আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার চার দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রায় ১৫ বছর পর এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো আজ।

রায়ের সময় দণ্ডিত পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি মো. আনিস রানা পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন, এই রায় অত্যন্ত ন্যায়সংগত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সঠিক বিচার পেয়েছে। আমরা আশা করি, এই রায়ের ফলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে।

আরও পড়ুন

×