সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখের হাসি
রেলস্টেশনে চলছে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন 'ইউএসওএস'-এর পাঠদান কর্মসূচি...
রুবেল মিয়া নাহিদ
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৪ | ০৭:১৯ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৪ | ১১:৪২
জামিল করিম। ২০২০ সালে পত্রিকায় প্রথম চোখে পড়ে সুইডেনের তরুণী গ্রেটা থুনবার্গের ফ্রাইডেস ফর ফিউচার আন্দোলনের কর্মযজ্ঞ। সেই অনুপ্রেরণায় কাছের কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গড়ে তোলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইউএসওএস। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া তাদের যাত্রা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই করোনার ধাক্কায় থমকে যায়! করোনা পরিস্থিতি কার্যক্রম থমকে গেলেও দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যখন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ার সংখ্যা বেড়েই চলছিল, ঠিক তখনই তারা এক সাহসী উদ্যোগ হাতে নেয়। ১০৫ শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঁচটি গ্রুপের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অস্থায়ী স্কুল কার্যক্রম শুরু করে, যা দীর্ঘ বিরতির পরও শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা তাদের স্কুল কার্যক্রম সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যায়। যেখানে রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন কলাবাগান কলোনির ৪২ শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ করে। শিক্ষাসামগ্রী ও মুখরোচক বিভিন্ন খাবার বিতরণের মাধ্যমে শিশুদের তাদের স্কুলে আসতে আগ্রহী করে তোলা হয়। এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রতিনয়ত প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা সাইক্লিং করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় তাদের সদস্যদের। এসবের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, রক্তদান, খাবার বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। জ্ঞানসমৃদ্ধ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ইউনাইটেড স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন অব সোশ্যাল সার্ভিসের ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘গ্রন্থকুটির’। যার মাধ্যমে সেলুনে চুল কাটতে আসা অপেক্ষমাণ মানুষ বই পড়ার মাধ্যমে নিজেকে জ্ঞানের নতুন নতুন শাখার সঙ্গে পরিচয় করাতে পারে। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় তারা তিনটি লাইব্রেরি স্থাপন করেছে। সিলেটে ২০২২ সালের বন্যায় যখন মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে, সেই প্রতিকূল পরিবেশে ফান্ড সংগ্রহ করে সিলেটের চাতক, জৈন্তা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ নিয়ে তারা ছুটে যায়।
সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে জামিল করিম বলেন, ‘পারিবারিক অনুপ্রেরণায় একদল স্বপ্নবাজ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে সমুদ্র জনপদে মানবতার শুভেচ্ছাবার্তা ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছি। করোনাকালে আর্থিক অভাবে অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। মূলত সে সময়ে এক দু’জনের পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে আজ আমরা হাজারো মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছি।’
মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে অসচ্ছল বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। u
- বিষয় :
- সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী