প্রেরণা
মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারাই জীবনের সার্থকতা
জিমি হেনড্রিক্স
আব্দুর রাজ্জাক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
জিমি হেনড্রিক্স। আমেরিকান গিটারিস্ট। অনেকের বিবেচনায় তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট। নানা সময়ে দেওয়া কিংবদন্তি এই গিটারিস্টের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন আব্দুর রাজ্জাক
ক্লাবের মতো ছোট্ট একটা জায়গায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামিং করতে ভালো লাগে আমার। তখন এক ধরনের অনুভূতি হয়। তারপর আরেক ধরনের মিউজিকের দিকে মন দিতে পারি। তখন আবার হয় অন্য ধরনের অনুভূতি। তারপরই বলার মতো এক ধরনের মিউজিক হাজির করতে পারি। আর তা দিয়ে স্পটলাইট নয়, বরং মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই আমি।
অহমিকার দেয়াল
দর্শক-শ্রোতার কাছ থেকে আমি যা পাই, তা আমার স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। এ এমনই এক প্রাপ্তি, যার চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার নেই কারও। এভাবেই আরেকটি নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায় আমার সামনে। যদিও দর্শক-শ্রোতার কথা ঘূর্ণাক্ষরেও ভুলে বসি না আমি। তবে তাদের উন্মাদনা বা বাড়াবাড়ি রকমের উচ্ছ্বাসকেও পাত্তা দিই না মনে। ফলে ‘হায় স্রষ্টা, আমি এখন স্টেজে, এখন আমি কী করব?’–এমন অহমিকা জন্মায় না আমার ভেতর। বরং আমি অন্যদিকে মোড় ঘোরাই; অনেকটা নতুন কোনো মিউজিক বাজাতে শুরু করে দিই।
জীবনের চাওয়া
আরাম-আয়েশে জীবন কাটানোর মতো পর্যাপ্ত টাকা আমার নেই। সে রকমটা আমি চাইও না। কেননা, সকালে ঘুম ভাঙার পর বিছানায় খানিকটা আড়মোড়া দেওয়া, তারপর চলে যাওয়া ইনডোর সুইমিংপুলে, তারপর একটু সাঁতার কেটে এসে নাশতার টেবিলে বসা, একটু বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া, এক গ্লাস কমলার জুস কিংবা এ রকম কিছু একটা খাওয়া, তারপর চেয়ার থেকে উঠে সুইমিংপুলে যাওয়া, তারপর বাথরুমে গিয়ে শেভ করা–এটুকুই যথেষ্ট আমার জন্য। আর বিলাসিতা? যদি কখনও পাহাড়চূড়ায় উঠে একটা তাঁবু গেড়ে থাকতে পারি, তাতেই খুশি!
আমার অনুসরণ চাই না
আর আমার স্টাইল? স্টাইল তো সব মানুষই যে যার মতো করে। তবে কেউ নতুন কোনো স্টাইল করলে সেটি নিয়ে সবাই বলাবলি করাটাই স্বাভাবিক। আমার উড়নচণ্ডী ভাব, আমার ফ্রিকি হেয়ার স্টাইল–এসব আমি করেছি, কেননা, আমার খুব আওয়াজ তুলতে ভালো লাগে। কেননা, পরিবর্তন আনার ইচ্ছাটা আমার ভেতর স্বভাবজাত। তার মানে এই নয় যে, আমি লোকজনকে দেখিয়ে বেড়ানোর জন্য করেছি। বরং আমি চাই, মানুষ আমাকে না দেখে বরং যেন আমার বাজনা শোনে। আমাকে কেউ অনুসরণ করুক সেটি আমি চাই না। একবার স্টেজে দাঁড়িয়ে আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম, কোনো এক রাতে গিটার জ্বালিয়ে দেব। কিংবা ভেঙে ফেলব বাজাতে বাজাতে। দর্শকরা বলে উঠেছিল, তবে তাই হোক। আমি বলেছিলাম, তোমরা কি সত্যি সেটি চাও? তারা বলেছিল, অবশ্যই চাই। জবাব দিয়েছিলাম, যেদিন খুব রাগ হবে, মনে হবে যথেষ্ট বাজানো হয়েছে, এবার আমার ক্ষান্তি দেওয়া উচিত, নিশ্চয়ই সেদিন ঘটাব এমন কাণ্ড। জানি এ ধ্বংসের প্ররোচনা; তবু বলি, দম ফেলার জন্য প্রত্যেক মানুষেরই একটা ঘর থাকা চাই। আর আমার ক্ষেত্রে, স্টেজই তো হলো ঘর!
বাস্তব ও কল্পনার এক সংমিশ্রণ
আমি যখন নতুন কোনো কর্ড তুলি গিটারে, তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই কর্ডটিকে সৃষ্টি করি বাস্তব ও কল্পনার এক সংমিশ্রণে। বাস্তবতার ভিন্নতর দিকটি ফুটিয়ে তোলার জন্যই মানুষ কল্পনার আশ্রয় নেয়। একদিক থেকে দেখলে, বাস্তব বলে আসলে কিছুই নেই। তবে প্রত্যেক ব্যক্তি-মানুষেরই রয়েছে চিন্তার নিজস্ব পন্থা। সেটিকে বড় ধরনের রূপ দিয়ে থাকে প্রাতিষ্ঠানিকতা। আমার ক্ষেত্রে, আমার যা ভালো লাগে, সেই কর্ডই সৃষ্টি করি আমি। এ ক্ষেত্রে আমার ভাবনা একেবারেই উন্মুক্ত থেকে যায়। যখন বাজাতে উঠি স্টেজে, তখন তাতে সম্পূর্ণ একান্ত হয়ে ওঠি। সামনে কে আছে, তারা কী চায়–কোনো কিছুই পাত্তা দিই না একদম। মন যা চায়, সেভাবেই বাজাতে থাকি গিটার। এটাই আমার স্বভাব। কোনো কিছুতে আটকে থাকতে, স্রেফ একজন গিটারিস্ট কিংবা গীতিকার অথবা কোনো মিউজিক ট্যাপ ড্যান্সার হিসেবে আবদ্ধ থাকতে দারুণ অপছন্দ আমার।
নতুনের খোঁজ...
আমি বিশ্বাস করি, কোনো নতুন আইডিয়া, কোনো নতুন উদ্ভাবন, কিংবা নতুন কোনো গ্যাস বা নতুন যা কিছুই হোক না কেন; সেটির সন্ধান যদি আপনি পান, তাহলে পুরোনোর চোখ রাঙানিতে পাত্তা না দিয়ে, সেটির যত্ন নেওয়া উচিত আপনার। অন্যদের চেয়ে আলাদা হয়ে ওঠার ক্ষুধা আপনার ভেতর থাকতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
যেই চেষ্টা বৃথা
যে মিউজিক আমি শুনতে পাই, সেটিকে গিটারে তুলতে পারি না। এই পারাটা স্রেফ অনেকটা দিবাস্বপ্ন বা এ রকম কিছু একটার মতো ব্যাপার। আপনি সব ধরনের মিউজিকই শুনতে পাবেন। চাইলেই গিটারে তুলতে পারবেন না সব। তা করার উদ্দেশ্যে যদি গিটারে হাত রাখেন আর বাজাতে শুরু করে দেন, তাহলে প্রকৃত অর্থে আপনি পুরো ব্যাপারটাই নষ্ট করে দেবেন। সব ধরনের মিউজিক তোলার মতো যথেষ্ট ভালো গিটার বাজাই না আমি; ফলে এমন চেষ্টা করিও না। ইস, আমি যদি জানতাম, কী করে ইনস্ট্রুমেন্টের সুর
লিখতে হয়! u
- বিষয় :
- মানুষ সুরক্ষা
