ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

প্রেরণা

মানসিক দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব

মানসিক দৃঢ়তায় ঘুরে  দাঁড়ানো সম্ভব
×

লিওনেল সেবাস্তিয়ান স্কালোনি ছবি : সংগ্রহ

আশিক মুস্তাফা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

লিওনেল সেবাস্তিয়ান স্কালোনি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিশ্বকাপজয়ী কোচ ও সাবেক ফুটবলার। গত ৯ জুলাই মিসরের বিপক্ষে অসাধারণ জয়ের পর আর্জেন্টিনার আলোচিত পত্রিকা ‘বুয়েনস আইরিস টাইমস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন আশিক মুস্তাফা

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের পাশাপাশি নিজের দলকে অন্য এক পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই আমি। আমার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে মানুষ আর্জেন্টিনাকে এমন একটি দল হিসেবে মনে রাখবে, যারা কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছেড়ে দেয় না। গেল বিশ্বকাপ মানে, ২০২২ সালে আমার অধীনেই ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের সুযোগও হয়তো সামনে। ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে; এমনটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি এবং দলের সবাইকে সেই মন্ত্রেই আমি 
উজ্জ্বীবিত করি!

ভালোবাসার জন্যই আমরা ফুটবল খেলি
ট্রফির চেয়েও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ দলের মানসিকতা ও লড়াইয়ের স্পৃহা। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার ১০ বছর বয়সী এক সমর্থকের আবেগঘন একটি ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর। তার সূত্র ধরে বলতে চাই, সত্যিকার অর্থে আমি চাই আর্জেন্টিনার এই জাতীয় দলটিকে সবাই এমন একটি দল হিসেবে মনে রাখুক, যারা কখনও হাল ছাড়ে না। আমরা কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়েরা সবাই এই ভালোবাসার জন্যই ফুটবল খেলি। আমরা শুধু একটি জয়ের জন্য খেলি না। যখন হৃদয় থেকে আসা এমন আবেগ দেখি, সেটি সত্যিই অসাধারণ।

যেই আবেগ উপভোগ করতে কোচ হয়েছি
ফুটবল মানেই কেবল কৌশল বা পরিকল্পনা নয়; এর মধ্যে রয়েছে হৃদয় ও সহজাত প্রবৃত্তি। রেফারি খেলা শেষ ঘোষণা না করা পর্যন্ত কোনো বলের লড়াইয়ে হাল না ছাড়ার মানসিকতা। এমনটা ঘটেছে, আবার নাও ঘটতে পারত; তবে যদি হারতেই হয়, আমি এভাবেই হারতে পছন্দ করব। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর এই অনুভূতিগুলো পাওয়ার জন্যই আমি কোচ হয়েছি। কোচ হওয়াটা আমার খুব একটা পছন্দের বিষয় বলে নয়। একটি ফুটবল ম্যাচ আমাদের বিশেষ করে আমাদের মতো আর্জেন্টাইনদের যে আবেগের স্বাদ দেয়, তা অতুলনীয়। ঠিক এ কারণেই আমি কোচ হয়েছি।

দলের মানসিক দৃঢ়তা
মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে দুর্দান্ত জয় পেয়েছি আমরা। এর জন্য দলের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করি; সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের কারণে আমি যে আবেগের অভিজ্ঞতা লাভ করি তা নিয়ে সত্যিই আমি উচ্ছ্বসিত। সেদিন ম্যাচ শেষে স্পষ্টতই আবেগপ্রবণ হয়ে ডাগআউটে বসে নিজের অনুভূতি বিভিন্নজনের সঙ্গে শেয়ার করেছি। মিসরের পক্ষ থেকে দুই-তিনবার সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলেও ম্যাচটি পুরো সময়ই আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে ছিল। সমতাসূচক গোলটি পাওয়ার পর দল বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে তারা জিততে পারবে। আমাকে তাদের বলতে হয়নি যে খেলা চালিয়ে যাও, কারণ তারা নিজেরাই সেই তাগিদ অনুভব করেছিল।

দেশপ্রেম ও মেসির প্রতি আস্থা
নিজের আবেগ কখনোই লুকিয়ে রাখি না। আবার অতি আবেগও দেখাই না। তবে বিশ্বাস করি, জাতীয় দলের কোচের সবসময় এই আবেগ ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি ধারণ করা উচিত। দলের সবার মতো লিওনেল মেসির প্রতি এখনও আমার অগাধ আস্থা; ৩৯ বছর বয়সেও মেসি সেরা হওয়ার সক্ষমতা রাখে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। মাঠে মেসি নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রাখেন। u

আরও পড়ুন

×