ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পরিবেশ সুরক্ষা এবং তরুণ নেতৃত্ব গড়ার উদ্যোগ

পরিবেশ সুরক্ষা এবং তরুণ নেতৃত্ব গড়ার উদ্যোগ
×

‘বর্জ্য কমলেই বাঁচবে পৃথিবী’ শিরোনামের ক্যাম্পেইনে শিক্ষার্থীদের সচেতন করছেন নাদিয়া ছবি : সংগ্রহ

রুবেল মিয়া নাহিদ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

শৈশব থেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতি গভীর আগ্রহ নাদিয়ার। পরবর্তী সময়ে এই আগ্রহ থেকেই স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে নেন কক্সবাজারের ভারুয়াখালীর নাদিয়া হোসেন সৌরভী। বর্তমানে তিনি ‘ম্যাজিক ইনিশিয়েটিভের সেফগার্ডিং ফোকাল’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মূলত তিনি শিশু ও তরুণদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই ভূমিকা কেবল দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি মানবিক ও নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
গার্লস গাইড আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার সুবাদে নাদিয়া ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ‘বেস্ট রেঞ্জার’ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন। নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সমাজসেবার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এই অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে সি স্কাউটসে যুক্ত হয়ে তিনি সম্প্রদায় উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন প্রজনন স্বাস্থ্য উদ্যোগে যুক্ত থেকে তিনি তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিভিন্ন পিসবিল্ডিং ও ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ লিডারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি তরুণদের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি, অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব এবং নাগরিক দায়বদ্ধতার চর্চাকে 
উৎসাহিত করছেন। 
সম্প্রতি ‘ক্যামেরায় গাঁথি-শান্তির গল্প ২০২৫’ উদ্যোগের আওতায় নির্মিত দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তাঁর অংশগ্রহণ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘প্রহর’ চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার, সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও গুজবের বিস্তার এবং এর সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। তথ্য যাচাই, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্বের গুরুত্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে তাঁর সম্পৃক্ততা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণেও নাদিয়ার ভূমিকা সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সঙ্গে কাজ করে টেকসই পর্যটনের ধারণা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছেন। 
নিজের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে নাদিয়া হোসেন সৌরভী বলেন, ‘তারুণ্যের শক্তি কেবল স্বপ্ন দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সমাজে বাস্তব পরিবর্তন আনার অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে। তরুণরা এগিয়ে এলে মানবিকতা, নেতৃত্ব, পরিবেশ সচেতনতা এবং শান্তির বার্তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।’ 

আরও পড়ুন

×